ইরানের নতুন করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আবারও সতর্ক অবস্থায় গেছে উপসাগরীয় দেশগুলো। প্রশ্ন উঠেছে, দামি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে কতদিন ঠেকানো যাবে তুলনামূলক সস্তা ইরানি ড্রোন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই লড়াই এখন শুধু প্রযুক্তির নয়, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতারও পরীক্ষা।
ইরান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এর পরপরই বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং জর্ডানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণ উপকূলের বান্দার আব্বাস, সিরিক, জাস্ক ও কেশম দ্বীপের আশপাশে হামলা চালিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এটি এক ধরনের নিরাপত্তা সংকট। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকায় তারা ইরানের হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে, অন্যদিকে সেই মার্কিন উপস্থিতিই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষার সবচেয়ে বড় ভরসা। সৌদি আরব, ইউএই, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানের কাছে থাড (THAAD), প্যাট্রিয়ট, নাসামসসহ আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই শতভাগ নিরাপদ নয়।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে খরচের হিসাব। ইরানের তৈরি অনেক শাহেদ ড্রোনের উৎপাদন খরচ প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার হলেও, এগুলো ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত আধুনিক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটির দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চললে উপসাগরীয় দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং ব্যয়, দুইয়ের ওপরই বড় চাপ তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, রাডার সংযোগ ও যৌথ আকাশ প্রতিরক্ষা আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না থেকে দক্ষিণ কোরিয়া, ইউক্রেন ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও বাড়াচ্ছে।
তবে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনীতিকরাও মনে করছেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য ইরানের সঙ্গে সংলাপের বিকল্প নেই। কারণ উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি নির্ভর করে নিরাপদ বাণিজ্য, তেল-গ্যাস রপ্তানি এবং হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক চলাচলের ওপর। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত সেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা