যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান ঘিরে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মেইন অঙ্গরাজ্যে অভিযানের সময় আইসিই (ICE) কর্মকর্তার গুলিতে ২৬ বছর বয়সী এক কলম্বিয়ান যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর মানবাধিকার সংগঠনগুলো নতুন করে সংস্থাটির অভিযান ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) জানিয়েছে, সোমবার (১৪ জুলাই) মেইনের বিডেফোর্ড শহরে বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ পাওয়া এক ব্যক্তিকে ধরতে নজরদারি চালাচ্ছিল আইসিই। এ সময় একটি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলে চালক পালানোর চেষ্টা করেন। বিভাগের দাবি, জননিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় একজন কর্মকর্তা গুলি চালান। তবে নিহত ব্যক্তি সেই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিহত ২৬ বছর বয়সী যুবক একজন কলম্বিয়ার নাগরিক ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি ছিল তার। কলম্বিয়ার দূতাবাস জানিয়েছে, তারা মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং নিহতের পরিবারের জন্য কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে। এ ঘটনায় মেইনের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, এফবিআই এবং ডিএইচএসের ইনস্পেক্টর জেনারেলের দপ্তর পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মুখোশ পরা কর্মকর্তা, চিহ্নবিহীন গাড়ি, কর্মস্থলে অভিযান এবং জনসমক্ষে গ্রেপ্তারের মতো কৌশল অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় তৈরি করছে। সম্প্রতি টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, শিকাগো, মিনেসোটা ও ভার্জিনিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অভিবাসন অভিযান ঘিরে একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
এদিকে, মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ৫০০ দিনে আইসিইর হেফাজতে অন্তত ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাগুলোর দাবি, গত এক দশকের মধ্যে বর্তমানে আইসিই হেফাজতে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এসব ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর কার্যক্রম, জবাবদিহি ও আটক কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
সাউথ ক্যারোলাইনার প্রথম নারী সিনেটর হচ্ছেন লিন্ডসের বোন ডার্লিন
হরমুজ প্রণালিতে দুই জাহাজের সংঘর্ষ, ২৩ নাবিক উদ্ধার