ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)-তে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির আশঙ্কা, সরকারি হিসাবে যত রোগী শনাক্ত হয়েছে, বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা তার অন্তত দ্বিগুণ, এমনকি চার গুণ পর্যন্ত হতে পারে। এদিকে বেতন না পাওয়ায় চিকিৎসকদের ধর্মঘটের হুমকিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হেলথ ইমার্জেন্সিজ প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক চিকওয়ে ইহেকওয়াজু জেনেভায় সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে ডিআর কঙ্গোয় অন্তত ১ হাজার ৯৬৩টি ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং ৭১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় ২ থেকে ৪ গুণ বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, অনেক মানুষ চিকিৎসাকেন্দ্রে না গিয়ে পরিবারের মধ্যেই মারা যাচ্ছেন, ফলে বহু সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে না।
গত ১২ জুলাই পর্যন্ত ৭২৭ জন রোগী বিভিন্ন ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকায় এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোর একটি।
এদিকে ইবোলার কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশের রওয়ামপারা চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দুই মাসের বেতন না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সোমবার তারা কেন্দ্রের সামনে টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভ করেন এবং সাময়িকভাবে প্রবেশপথ অবরোধ করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, ১৫ মে থেকে তারা বেতন ছাড়াই রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেতন-ভাতা পরিশোধ না হলে তারা পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতিতে যাবেন।
ডিআর কঙ্গোর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মীরাও এই প্রাদুর্ভাবে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১১২ জন স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রমিত হয়েছেন এবং ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল রজার কাম্বা বেতন পরিশোধে বিলম্বের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বেতন তালিকায় অনিয়ম ও যাচাই-বাছাইয়ের কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
ডিআর কঙ্গো ১৫ মে দেশটির ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করে। এবারের সংক্রমণ বুন্ডিবুগিও (Bundibugyo) ভাইরাস দ্বারা ঘটেছে, যার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে দুটি সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। এদিকে এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদার ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ ১.৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। ডিআর কঙ্গোর পাশাপাশি প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ২০টি সংক্রমণ এবং ২টি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।