নেসেট ভেঙে অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের পথে ইসরায়েল

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। দেশটির পার্লামেন্ট নেসেট ভেঙে দিয়ে আগামী ২৭ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর এটিই হবে প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যেখানে নেতানিয়াহু সরকার সম্পর্কে ভোটাররা সরাসরি রায় দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক প্রতিবেদনে জানায়, চলতি অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে নেসেট ভেঙে দেওয়া হবে। ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, এরপর জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ২৭ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনের আগে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করতে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থি জোট সরকার কয়েকটি বিতর্কিত আইন দ্রুত পাসের চেষ্টা করছে। এর মধ্যে রয়েছে তোরাহ অধ্যয়নকে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার সমতুল্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব, যার ফলে অতি-রক্ষণশীল ইহুদিদের সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা সীমিত করার একটি বিলও আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উগ্রপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস তৎপরতা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

৭৬ বছর বয়সী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য আসন্ন নির্বাচন রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতির অভিযোগে চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি থাকা এই নেতা ক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও সুরক্ষিত রাখতে চাইছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগাম ক্ষমার আহ্বান জানালেও তার বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, এবার নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরার পথ আগের তুলনায় কঠিন হতে পারে। তবে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেতা অতীতেও একাধিকবার রাজনৈতিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছেন।

নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ গাদি আইজেনকোট। যুদ্ধে নিজের ছেলে ও দুই ভাতিজাকে হারানো আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ‘ইয়াশার পার্টি’ সাম্প্রতিক জনমত জরিপে প্রথমবারের মতো নেতানিয়াহুর ‘লিকুদ পার্টি’কে অতিক্রম করেছে।

জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আইজেনকোটের দল ২৪টি এবং নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৩টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

Attr/AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত