নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট গান ব্যবহার এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অন্তত একজনের চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাহুল গান্ধী আহত শিক্ষার্থী সাহিলের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, জাতীয় পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় একটি পেলেট তার চোখে আঘাত করে। এতে তার একটি চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা এখনো নিশ্চিত নন, তিনি ভবিষ্যতে ওই চোখে আবার দেখতে পারবেন কি না।
তিনি অভিযোগ করেন, নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এমন শক্তি প্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ এবং পেলেট ব্যবহারের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধী তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন। প্রথমত, প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য দায়ীদের অপসারণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ এবং পেলেট ব্যবহারের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে যে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং বলপ্রয়োগের অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে আন্দোলনের মূল দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, এখনো অমীমাংসিত রয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকার শুক্রবার সিদ্ধান্ত জানাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ‘অপরাধপ্রবণ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতীক’ আখ্যা দিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান সংকটের জন্য তিনি দায়ী। তাই তাকে পদত্যাগ করতেই হবে। আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির জাতীয় মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে তাদের দুটি দাবি নীতিগতভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিট পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর ও অন্যান্য মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার সম্মতি দিয়েছে।
তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরকার শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে বলে জানান তিনি। রাঙ্কা বলেন, এ বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা করছেন তারা। শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠক হওয়ার কথাও জানান তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে