নেপাল-তিব্বতে ফের উদ্ধার অভিযান শুরু

পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় নেপাল ও তিব্বতে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। হিমবাহ ধসে সৃষ্ট হ্রদের বাঁধ ভেঙে পানি উপচে পড়ার আশঙ্কায় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল উদ্ধার তৎপরতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর নতুন করে মাঠে নেমেছেন উদ্ধারকর্মীরা।

নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান ফের শুরুর বিষয়টি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র। অন্যদিকে তিব্বতে অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে বন্যার ঝুঁকি এখন নিয়ন্ত্রণযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।

তবে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংকটজনক। ঘরবাড়ি হারিয়ে বহু মানুষ আশ্রয় ও সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক সহায়তা সংস্থাও দুর্গত এলাকায় কাজ করছে।

নেপালে কর্মরত মানবিক সহায়তা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের কর্মকর্তা ধ্রুব গুরমাছান বিবিসিকে বলেন, পরিস্থিতি এখনো বিশৃঙ্খল। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন জরুরি সহায়তার জন্য মরিয়া হয়ে অপেক্ষা করছেন। তাঁদের অনেকের ঘরবাড়ি পানির স্রোতে ভেসে গেছে। পুরো পরিস্থিতিই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

তবে বিপর্যয়ের মধ্যেও নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা ছাড়ছেন না উদ্ধারকর্মীরা। গুরমাছানের ভাষায়, এখনো আশা রয়েছে, খোঁজদের কেউ কেউ হয়তো জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হতে পারেন।

তবে উদ্ধার তৎপরতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগব্যবস্থার বিপর্যয়। দুর্গত এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় নিখোঁজ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাহাড়ি অঞ্চলে হিমবাহ ধস, আকস্মিক পানি প্রবাহ ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় উদ্ধারকাজ চালাতে সতর্কতা অবলম্বন করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন করে পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় ঝুঁকি কিছুটা কমার পর নেপাল ও তিব্বতে উদ্ধারকাজ ফের শুরু হওয়ায় নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে যত দ্রুত সম্ভব নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়াই এখন উদ্ধারকর্মীদের প্রধান লক্ষ্য।