নেপাল বিপর্যয়ের আগাম সংকেত মিলেছিলো ৫ মাস আগেই!

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

নেপালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী বন্যার পাঁচ মাস আগেই হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ গলে যাওয়ার বিষয়ে বড় ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছিল আন্তর্জাতিক সংস্থা 'ইসিআইএমওডি' (ICIMOD)।

তাদের দুটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চলতি শতাব্দীর শুরু থেকে হিন্দুকুল-হিমালয় অঞ্চলে বরফ গলার গতি দ্বিগুণ হয়েছে এবং ১৯৭৫ সালের পর থেকে কিছু জায়গায় হিমবাহের পুরুত্ব ২৭ মিটার পর্যন্ত কমে গেছে।

কাঠমান্ডুভিত্তিক এই গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এই অঞ্চলের হিমবাহগুলো তাদের মোট আয়তনের ১২ শতাংশ এবং সঞ্চিত বরফের ৯ শতাংশ হারিয়েছে। এর ফলে এশিয়ায় নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২০০ কোটি মানুষ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে।

নেপালে আড়াই শতাধিক মানুষের প্রাণহানির মূল কারণ অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরা এখনও কাজ করছেন। তবে তারা ধারণা করছেন, বরফ কমার পাশাপাশি অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে চার হাজার মিটার বা তারও বেশি উচ্চতায় তুষারপাতের পরিবর্তে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা বন্যার প্রধান কারণ হতে পারে। গবেষকরা আরও খতিয়ে দেখছেন, কোনো উঁচুপাহাড়ের বরফ ও পাথরের ধস নদীপ্রবাহে হঠাৎ বাধা তৈরি করে এই আকস্মিক ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা বানের সৃষ্টি করেছিল কি না।

গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পাহাড়ে তুষার কমছে এবং খালি হয়ে পড়া পাথুরে জমি বেশি তাপ শোষণ করছে। এতে পাহাড়ের ঢালগুলো আরও নড়বড়ে ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার বরফ গলে যাওয়া এই ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

ওয়াইএ
আরও পড়ুন