প্রতিবছর রমজান মাস এলেই রাজধানী ঢাকার চিরচেনা যানজট ভয়াবহ রূপ নেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ভোর থেকে শুরু করে ইফতারের আগ পর্যন্ত নগরীর প্রতিটি প্রধান সড়ক ও অলিগলি স্থবির হয়ে থাকছে যানবাহনের চাপে। তীব্র যানজটের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে হাজারো মানুষকে প্রতিদিন পথেই ইফতার করতে হচ্ছে। নগরবাসীর প্রশ্ন- রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কেন সড়কে এই চরম বিশৃঙ্খলা?
গতকাল রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি, মতিঝিল, মিরপুর, বাড্ডা ও তেজগাঁও এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে ইফতারের আগে এই চাপ চরমে পৌঁছায়। রমজান উপলক্ষে রাস্তার পাশে ভাসমান দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কে ইফতারি বিক্রির কারণে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। ফলে যানবাহনের গতি শ্লথ হয়ে পড়ছে। এছাড়া ঈদের কেনাকাটা শুরু হওয়ায় শপিং মল কেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
মতিঝিলের একটি বিমা কোম্পানিতে কর্মরত গাফফার মিয়া জানান, প্রতিদিন মিরপুর থেকে অফিসে আসতে এবং ফিরতে তার অন্তত ৪ ঘণ্টা সময় লাগছে। তিনি বলেন, ‘রোজার সময় বাসে ওঠা যেমন কঠিন, যানজটে বসে থাকা তার চেয়েও কষ্টের। অফিসের নতুন সময়সূচির কারণে সবাই একসঙ্গে রাস্তায় নামায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।’
বাড্ডার বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৩টায় অফিস ছুটি হলেও বাসায় গিয়ে ইফতার করা এখন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের উচিত রোজার সময় রাস্তার উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজানে অফিস-আদালতের সময়সীমা পরিবর্তন হওয়ায় প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা একই সময়ে রাস্তায় নামছেন। দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে সব কার্যক্রম শুরু ও শেষ হওয়ার কারণে সড়কে এই বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং গণপরিবহনের যত্রতত্র স্টপেজ যানজটকে আরও উসকে দিচ্ছে।
রমনা ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. আশিকুর রহমান জানান, ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি স্টুডেন্ট টিম ও ভলান্টিয়াররা কাজ করলেও পরিস্থিতির উন্নতি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন সচিবালয়ে অফিস করতে আসেন, তখন ওই এলাকায় বাড়তি চাপ থাকে। এছাড়া ঈদের মার্কেট ও অফিস ছুটির সময় একই হওয়ায় সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।’
রাজধানীর যানজট নিরসনে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং একাধিক ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রকল্পকে যানজট মুক্তির দাওয়াই হিসেবে দেখা হলেও রমজানের এই সময়ে তার সুফল খুব একটা দৃশ্যমান হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মূল সড়কের পাশাপাশি সংযোগ সড়কগুলো প্রশস্ত না করা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতাই এর মূল কারণ।
নগরবাসীর দাবি, রমজানের বাকি দিনগুলোতে যানজট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি স্কাউট, বিএনসিসি এবং স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানো হোক। সেই সঙ্গে রাস্তার পাশের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সংসদ ভবনে শপথ অনুষ্ঠান, এড়িয়ে চলবেন যেসব সড়ক
পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সড়ক কোথায় কোন দেশে
