সেই কনটেইনারের খোঁজ মেলেনি ৬ মাসেও

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৫, ১২:৪৬ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেড় কোটি টাকার কাপড়ভর্তি দুটি কনটেইনারের হদিস মিলছে না। অথচ এসব পণ্য শুল্ক-চার্জসহ নিলামের মাধ্যমে বৈধভাবে কেনা হয়েছিল। পণ্য ডেলিভারির সব প্রক্রিয়া শেষে ছয় মাস পার হলেও কনটেইনার দুটি উদ্ধার হয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত গত ফেব্রুয়ারিতে, যখন শাহ আমানত ট্রেডিং-এর মালিক সেলিম রেজা চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলামে অংশ নিয়ে ৮৫ লাখ টাকায় ২৭ টন ফেব্রিক্সভর্তি দুটি কনটেইনার কেনেন। পরবর্তীতে শুল্ক ও বন্দর চার্জসহ তিনি মোট এক কোটি সাত লাখ টাকা পরিশোধ করেন।

তবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পণ্য পরিবহনের জন্য ট্রাকসহ বন্দরের ইয়ার্ডে গেলে তাকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট কনটেইনার দুটির কোনো হদিস নেই।

সেলিম রেজা অভিযোগ করে বলেন, আমি কাস্টমস কমিশনার বরাবর তিনবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এখনো কোনো সদুত্তর পাইনি। আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেড় কোটির বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহ-কমিশনার মো. সাকিব হোসেন বলেন, আমরা বন্দরে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছি পণ্য মজুত আছে কি না। না পেলে রিফান্ড প্রক্রিয়া শুরু হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, বন্দরে এখন প্রায় ৪৮ থেকে ৪৯ হাজার কনটেইনার আছে। হ্যান্ডলিংয়ের সময় কোনো কনটেইনার অন্য কোথাও চলে যেতে পারে। তবে ‘মিসিং’ হওয়ার সুযোগ নেই, খোঁজা হচ্ছে।

সেলিম রেজা বলছেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্য হস্তান্তরের দায়িত্ব নিলেও বাস্তবে কোনো পক্ষই দায় নিচ্ছে না। কনটেইনারের খোঁজ না পেলে তাকে ক্ষতিপূরণ বা রিফান্ড দেওয়ার বিষয়টিও এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

ঘটনাটি চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ম্যানেজমেন্ট ও পণ্য নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। সরকারি নিলামে অংশগ্রহণ করে, সব ধরনের চার্জ পরিশোধ করার পরও যদি পণ্য হারিয়ে যায় তবে এর দায় কে নেবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ী মহলে।

DR/SN
আরও পড়ুন