বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ

মহাসড়কে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আটকে আছে যানবাহন

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

রোববার (২৮ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ দুপুর পর্যন্ত চলতে থাকায় ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১টি গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মানিকদহ ইউনিয়নের পুকুরিয়া মৌজার পাঁচ গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে আধিপত্যকে কেন্দ্র করে চলমান ওই বিরোধ শনিবার সন্ধ্যায় নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ রয়েছে, মহেশ্বরদী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কালাম বাসস্ট্যান্ডে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করে।

এর জেরে রোববার সকাল ৭টার দিকে মহেশ্বরদী এলাকার কয়েকটি গ্রামের লোকজন পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে গেলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রথম দফার সংঘর্ষ প্রায় আধা ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং ওই সময়ে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উভয় পক্ষ আবারও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে সকাল পৌনে ১০টার পর থেকে মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্তও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং সংঘর্ষে জড়িত উভয় পক্ষের লোকজন রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মানিকদহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর ও হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তবে শত শত গ্রামবাসীর উপস্থিতির কারণে সংঘর্ষ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের জন্য ফরিদপুর থেকে ফোর্স চাওয়া হয়েছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. হেলালউদ্দিন বলেন, মহাসড়কে বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

MCH/SN
আরও পড়ুন