ইউনিয়ন পর্যায়েও ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ চালু করা হবে

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
দেশের প্রচলিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে একে রোগ প্রতিরোধ কেন্দ্রিক করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’র স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
 
তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ চালু করা হবে এবং প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ইস্যু করা হবে ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য কার্ড।
 
রোববার (২৮ জুন) গোপালগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত 'ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন'-এর উদ্বোধন শেষে পৌরসভা মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের ঐতিহ্যগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে ডা. হায়দার বলেন, আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপলব্ধি করেছেন, আমরাও উপলব্ধি করেছি- আমাদের মতো একটা জনবহুল দেশে আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ট্রিটমেন্ট সেন্ট্রিক (চিকিৎসা কেন্দ্রিক) করে রাখতে পারব না।
 
বিভিন্ন কারণে, ঐতিহাসিকভাবে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চিকিৎসা কেন্দ্রিক। তার অর্থ হলো, আমরা রাষ্ট্র হিসেবে বা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা হিসেবে চোখ বন্ধ করে থাকি। একটা মানুষ যখন রোগে ভোগা শুরু হয়, যেমন- আপনার ব্লাড প্রেসার যখন বাড়তে শুরু করবে বা ব্লাড সুগার যখন বাড়তে শুরু করবে, কিন্তু কোনো রোগ আপনি বুঝতে পারছেন না, আমরা চোখ বন্ধ করে থাকি।
আমাদের কোনো ব্যবস্থাই নাই, এই যখন রোগ হওয়া শুরু করে তখন রোগীকে সনাক্ত করা, আমাদের কোনো মেকানিজমই নাই আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়। আমরা অপেক্ষা করি, কখন এই রোগীটির স্ট্রোক করবে, কখন হার্ট অ্যাটাক করবে বা কখন ডায়াবেটিসের ফলে রোগী মূর্ছা যাবে বা অন্য কোনো মারাত্মক সিম্পটম হবে, অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে, গাড়ি ডাকতে হবে, হাসপাতালে নিতে হবে। এটাই হলো আমাদের প্রথাগতভাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।
পকেট থেকে অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয়ের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এর ফলে কী হয়? আমাদের আউট অফ দ্য পকেট এক্সপেন্ডিচার বেড়ে যায়। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন, আমরা যদি ১০০ টাকা স্বাস্থ্যের পিছনে খরচ করি, ১০০ টাকার মধ্যে ৭৩ থেকে ৭৯ টাকাই খরচ হয় আমাদের পকেট থেকে। এবং আমাদের দেশে প্রতি বছর ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ পরিবার সর্বশান্ত হয়, দারিদ্র্য সীমার চরম নিচে চলে যায় এই স্বাস্থ্য ব্যয়ের খরচ মেটাতে যেয়ে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, এখান থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে প্রিভেনশন সেন্ট্রিক (প্রতিরোধ কেন্দ্রিক) করব। প্রতিরোধ কেন্দ্রিক একটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আমরা গড়ে তুলব। এবং সেইজন্য আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ইউনিয়নে আমরা একটি করে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট তৈরি করব।
এই ইউনিটের গঠন ও জনবল কাঠামো স্পষ্ট করে তিনি বলেন, এই ইউনিট দুইটা ধাপে বিভক্ত থাকবে। প্রথম ধাপে থাকবে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, যেখানে অন্তত দুজন করে ডিপ্লোমা ডাক্তার (স্বাস্থ্য সহকারী), দুজন নার্স, দুজন মিডওয়াইফ, একজন ফার্মাসিস্ট এবং একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান থাকবে। আমরা চাই না যে মেয়েরা আছে, যারা সন্তান প্রসব করবে, স্বাভাবিক প্রসবের জন্য কাউকে যাতে ইউনিয়নের বাইরে যেতে না হয়, সেটাকে আমরা নিশ্চিত করতে চাই।’
দালাল ও প্রতারকদের দৌরাত্ম্য কমাতে নতুন রেফারেল ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘আমাদের সবার জন্য একটি করে অ্যাসাইনড প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার থাকবে। যদি কোনো অসুখ হয়, আমরা প্রথমেই সেই প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারে যাব। সেখানে যদি তারা চিকিৎসা দিতে পারে দিবে, দিতে না পারলে তারা সঠিক জায়গায় রোগীকে রেফার করে দেবে আমাদের স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে। আপনারা ইতিমধ্যে শুনেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রত্যেকটা নাগরিকের জন্য ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য কার্ড ইস্যু করব।’
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে রোগীকে প্রাইমারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে রেফার করে দেবে সঠিক জায়গায়। যাতে করে দালালদের খপ্পরে পড়তে না হয়, প্রতারণার খপ্পরে পড়তে না হয়, এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে গিয়ে রোগীকে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে না হয়। ইনশাল্লাহ আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের প্রতিটি ইউনিয়নে এবং শহর অঞ্চলের প্রতিটি ওয়ার্ডে এই প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট স্থাপন করব।
MCH
আরও পড়ুন