শরীয়তপুরের নড়িয়ায় কবরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আনোয়ার ভূঁইয়া (৪২) নামের এক অটোরিকশা চালক নিহত হয়েছেন। এসময় সাবেক এক ইউপি সদস্য আহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলাকারির বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়নের মানাখান গ্রামে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার ভূঁইয়া ভূমখাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেকেন্দার ভূঁইয়ার ছেলে। আহত সাবেক ইউপি সদস্য রুবেল ঢালীকে প্রথমে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানাখান জামে মসজিদের কবরস্থানের জমি নিয়ে ভূমখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহেদুল ঢালী ও একই ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য রুবেল ঢালীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান। বুধবার বিকেলে ওই জমি নিয়ে জাহেদুল ও রুবেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জাহেদুল ও তার লোকজন লোহার রড দিয়ে রুবেলকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় রুবেলকে রক্ষা করতে তার শ্যালক আনোয়ার ভূঁইয়া এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। স্থানীয় লোকজন আনোয়ারকে উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
আনোয়ারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন জাহেদুল ঢালীর বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে নড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়।
ভূমখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাবুল ঢালী বলেন, মসজিদের পাশে কবরস্থানের জমি কেনা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে জাহেদুল ঢালী ও রুবেল ঢালীর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। শুনেছি, ওই ঘটনা নিয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর হামলা চালিয়েছে। দুই পক্ষই আমার আত্মীয়। কি থেকে কি হয়ে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না।
নড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ বলেন, মানাখান গ্রামের একটি বসতবাড়িতে এলাকার উত্তেজিত লোকজন আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভান। পুরো বসতঘরটি পুড়ে গেছে।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, এলাকার বিক্ষুব্ধ মানুষ হামলাকারীর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। যার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ, তিনি এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন। হামলার ঘটনায় যারা অভিযুক্ত, তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হলেন হাফিজুল্লাহ খান
মহাসড়কে আগস্টেই ৪৮১ জনের প্রাণহানি
স্ত্রীর মুখ ঝলসে দেওয়ার পর তালাক, স্বামী কারাগারে