কয়রায় সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

খুলনার কয়রা উপজেলায় এলজিইডির একটি সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, প্রাইমকোট ছাড়াই বিটুমিনাস কার্পেটিং, পাশের খাল থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন এবং কাজের তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা গেছে, মাদারবাড়ী উত্তর সীমানা–রংবাগ কেয়ার সড়কের চেইনেজ ১০০০ মিটার পর্যন্ত বিটুমিনাস কার্পেটিং (বিসি) দ্বারা উন্নয়ন কাজ, একই সড়কের চেইনেজ ৬৪৫ মিটারে ২.০ মিটার × ২.০ মিটার আকারের একক ভেন্ট আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ এবং হড্ডা–বেদকাশি সড়কের চেইনেজ ১৩৫০ মিটার পর্যন্ত উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।

প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামরুল এন্ড ব্রাদার্স। স্বত্বাধিকারী কামরুল ইসলাম। কাজটির অনুমোদিত বরাদ্দ ২ কোটি ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৯ টাকা ৫০ পয়সা। কাজ শুরুর তারিখ ছিল ৩ এপ্রিল ২০২৪ এবং শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ১৪ নভেম্বর ২০২৪।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম করা হয়েছে। পাশের খাল থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে খালের পাড় ভেঙে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে খালের মধ্যে ধসে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণ করা গাইড ওয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং অনেক জায়গায় ইট খসে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া প্রাইমকোট না দিয়েই ধুলাবালির ওপর বিটুমিনাস কার্পেটিং করা হয়েছে এবং নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাস্টার জাফরিন বলেন, ‘এই ঠিকাদারের অনিয়মের কথা বলে শেষ হবে না। কাজের শুরু থেকেই অনিয়ম করে আসছে। গাইড ওয়াল নির্মাণের সময় নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। পাশের খাল থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে রাস্তায় দেওয়া হয়েছে, তখন এলাকাবাসী বাধা দিয়েছিল। কার্পেটিংয়ের মান এত খারাপ যে হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঠিকাদারের লোকজনকে এস্টিমেট অনুযায়ী কাজ করতে বললে তারা বলে কাজ ঠিক আছে, সমস্যা হলে ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকে এস্টিমেট দেখে আসেন।’

এলাকাবাসীর দাবি, কাজের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর বাধার মুখে ঠিকাদারের লোকজন ও এলজিইডির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মী ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

এ বিষয়ে এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজফাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের একজন ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেখানে গিয়েছিল। কী হয়েছে আমি জানি না। আমি অফিসের বাইরে আছি, আগামীকাল আমি এবং আমার স্যার গিয়ে তদন্ত করবো।’

প্রকল্পের সাইনবোর্ড না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক প্রকল্পে সাইনবোর্ড থাকে না, এটা আছে কিনা আমি সঠিক জানি না, দেখে বলতে হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারের দায়িত্বে থাকা মো. হাসানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে নিম্নমানের কাজ পুনরায় সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হোক এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

MCH/AHA
আরও পড়ুন