প্রতিষ্ঠান থাকলেও পরীক্ষার্থী নেই

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৪, ১১:৩৯ এএম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক ঠিকই আছেন, তবে নেই কোনো পরীক্ষার্থী। বিষয়টা অবিশ্বাস্য মনে হলেও নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনাই ঘটেছে। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উপজেলার গড়াডোবা আব্দুল হামিদ কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ থেকে কোনো পরীক্ষার্থীই অংশ গ্রহণ করেনি। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নানা রকম আলোচনা ও সমালোচনার।

তবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে গত বছর (২০২৩) সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বাংলা বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া নেছার আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থী এ বছর স্থানীয় সান্দিকোনা উচ্চমাধ্যমিক স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্রে অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিচ্ছে।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় গড়াডোবা আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়। পরে এটি স্কুল এন্ড কলেজ হিসেবে উন্নতি হয়। গত ২০১৮ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখার শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে আসছেন। ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় এ প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এতে কৃতকার্য হয় ৪ জন এবং অন্য ৫ জন অকৃতকার্য হয়। অকৃতকার্যদের মধ্যে এ বছর নেছার আহমেদ নামে একজন অনিয়মিত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে নিয়মিত কোনো শিক্ষার্থী না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় কেউ অংশ নিতে পারেনি।

এ নিয়ে কথা হলে গড়াডোবা আব্দুল হামিদ কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান এসব তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কাজে কর্মে অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে তারা পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এ ছাড়া ভবন সংকট ও অবকাঠামোগত কারণে কোনো শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হতে চায় না। 

এ নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলমের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, এমনটা আমার জানা ছিল না। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে আর একটিও আছে বলে আমার মনে হয় না। বিষয়টি ভালোভাবে জানার জন্য বিস্তারিত খোঁজখবর নেব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ARS/FI
আরও পড়ুন