ছেলে-পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় স্কুলের মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে ফটকে বেড়া দিলেন দাতা সদস্য

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪০ এএম

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলে ও পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়া এবং নিজের প্রত্যাশিত নামে প্রতিষ্ঠান না করার অভিযোগে একটি বিদ্যালয়ের মাঠে সারি করে কলাগাছ লাগানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের কার্যালয়ের দরজায় নতুন তালা লাগিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দেওয়া হয়েছে বাঁশের বেড়া।

শনিবার (৩ অক্টোবর) উপজেলার ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য আজাদ আলী লোকজন নিয়ে এসে এসব করেছেন।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। পরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রতিষ্ঠানের নতুন নাম ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ নির্ধারণ করা হয়। এ-সংক্রান্ত রেজল্যুশনে নামটি আজাদ আলী নিজেই প্রস্তাব করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর বিদ্যালয়টি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে প্রাথমিক স্তরের পাশাপাশি ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পাঠদান চলছে। পর্যায়ক্রমে উচ্চতর শ্রেণিতে পাঠদানের অনুমোদন নেওয়ার কথা রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজার অভিযোগ, শনিবার সকাল ১১টার দিকে আজাদ আলী কয়েকজন লোক নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। তারা শিক্ষকদের কার্যালয়ের দরজায় আগে থেকে থাকা তালার ওপর নতুন করে আরেকটি তালা লাগান। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়। একপর্যায়ে মাঠজুড়ে সারি করে কলাগাছের চারা লাগানো হয়।

তবে আজাদ আলীর দাবি, টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তিনি জমি দিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর দেওয়া শর্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠেনি এবং পুত্রবধূকেও চাকরি দেওয়া হয়নি। এ কারণেই বিদ্যালয়ে তালা দেওয়া ও মাঠে কলাগাছ লাগানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা অবশ্য আজাদ আলীর এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তাঁর দাবি, আজাদ আলী শুরুতে কোনো শর্ত ছাড়াই বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেছিলেন। পরে প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা নির্মাণের পর জমি রেজিস্ট্রির সময় তিনি ছেলে ও পুত্রবধূর চাকরির দাবি তোলেন।

সেলিম রেজা বলেন, আজাদ আলীর পুত্রবধূকে বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগও দেওয়া হয়েছিল। চাকরিরত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর আজাদ আলীর ছেলে ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর চাকরির বিষয়টি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে রেজল্যুশনও রয়েছে বলে দাবি করেন প্রধান শিক্ষক।

এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন নিয়ে আদালতে মামলা করেছেন আজাদ আলী। ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর আদালতে করা ওই মামলায় তাঁর অভিযোগ, যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য তিনি জমি দিয়েছিলেন, সেই নামে প্রতিষ্ঠানটি করা হয়নি। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত