পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর পূর্ণ হতে চললেও এখনো শেষ হয়নি এর বিচারিক প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে নতুন মোড় নিয়েছে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও নেতাকে আসামি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিস্ফোরক মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, সম্পূরক চার্জশিটে শেখ হাসিনা, শেখ তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত সাহারা খাতুনসহ আরও কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো তথ্য-প্রমাণ এসেছে। আইন অনুযায়ী তাদের এ মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে এবং সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে প্রসিকিউশন।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় ২০১৩ সালে বিচারিক আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০১৭ সালে হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটির চিত্র ভিন্ন। ১২০০ সাক্ষীর মধ্যে গত ১৫ বছরে মাত্র ৩০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বিচারিক আদালতে মামলাটি ঝুলে থাকায় এর প্রভাব পড়ছে হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্তদের ওপরও।
আসামিপক্ষের আইনজীবী পারভেজ হোসাইন বলেন, ‘হত্যা মামলায় যারা খালাস পেয়েছেন, তারা বিস্ফোরক মামলায় আসামি হিসেবে থাকায় মুক্তি পাচ্ছেন না। বিস্ফোরক মামলার বিচার শেষ না হওয়ায় শত শত মানুষ বছরের পর বছর কারাগারে পড়ে আছেন। এই দীর্ঘসূত্রতা বিচারপ্রার্থী ও আসামিপক্ষ উভয়কেই হতাশ করছে।’
নিহত সেনাসদস্যদের পরিবারগুলোও বিচার শেষ হতে এত দীর্ঘ সময় লাগায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একদিকে বিচারিক কার্যক্রমের শ্লথ গতি, অন্যদিকে নতুন করে রাজনৈতিক নেতাদের আসামি করার প্রক্রিয়া সব মিলিয়ে পিলখানা মামলা এক জটিল সমীকরণে দাঁড়িয়েছে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনের সাক্ষ্য নেবে কমিশন
