শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে মূল্যবান সময় সাশ্রয় করতে প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করার একগুচ্ছ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৫ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই পরিকল্পনার কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা দশম বা দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস শেষ করার পর পরীক্ষা দিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে। এর ফলে একজন শিক্ষার্থীর জীবন থেকে প্রায় দুই বছর সময় হারিয়ে যায়, যা জাতীয় জীবনের জন্য বড় ক্ষতি। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে মন্ত্রণালয়।
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) স্থাপনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পরীক্ষায় নকল ও অনিয়ম নির্মূলে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে। শিক্ষামন্ত্রী নীলফামারীর ডিমলায় ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সংঘটিত অনিয়মের ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নথিপত্র তলব করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো অনিয়ম রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।
শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পরীক্ষার চাপ কমাতে ভবিষ্যতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বিষয় সংখ্যা হ্রাসের প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিজ নিজ এলাকার কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু কবে
টানা ১০ শনিবার খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়
