ঢাবি অধ্যাপক জিনাত হুদা সাময়িক বরখাস্ত

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৫ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের করা অভিযোগের পর গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর অধ্যাপক জিনাত হুদার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অধ্যাপক জিনাত হুদা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের নির্বাচিত সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি ঢাবির আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে গত ৩০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ এবং নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট। একই সভায় বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আফরোজা শেলীকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এর আগে ২৩ জুন আরও তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং একজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার ঘটনার অভিযোগে লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

একই সভায় জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও (মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা) সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে আলোচিত শিক্ষক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট।

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত