ব্র্যাড পিটের মদ্যপান নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: বিশেষজ্ঞ

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

সাত বছর মদ্যপান থেকে দূরে থাকার পর আবার অ্যালকোহল গ্রহণ শুরু করেছেন হলিউড অভিনেতা ব্র্যাড পিট। ১৮ মাস অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাসে থাকার পরও তার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনরুদ্ধার বা আসক্তি চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়ারও প্রয়োজন নেই।

৬২ বছর বয়সী পিট সম্প্রতি এসকোয়ারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি আবার মদ্যপান করছেন। তবে তার দাবি, এবার তিনি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিতভাবে পান করছেন। কয়েক গ্লাস ওয়াইন পান করতে পারেন, কিন্তু বেশি পান করেন না এবং এ বিষয়ে তাকে পেশাদারসুলভ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হয় বলেও জানান তিনি।

পিটের এই বক্তব্যের পর অনলাইনে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মদ্যপান থেকে বিরত থাকার বিষয়ে আগ্রহী বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘ সময় বিরতির পর আবার নিয়ন্ত্রিতভাবে মদ্যপান করা কতটা টেকসই হতে পারে।

তবে আসক্তি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে বিষয়টি এতটা সরল নয়। দুই দশকের বেশি সময় ধরে আসক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মী ও নীতিবিষয়ক কর্মী জো শ্র্যাঙ্ক বলেন, নিজের মদ্যপানের সমস্যা সম্পর্কে একজন মদাসক্ত ব্যক্তির মূল্যায়ন সবসময় নির্ভরযোগ্য নাও হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় মদ্যপান থেকে বিরত থাকার পর কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিতভাবে মদ্যপানে ফিরে যাওয়া সম্ভব এবং এতে জীবনযাত্রার উন্নতিও হতে পারে।

শ্র্যাঙ্কের মতে, সবার পুনরুদ্ধারের পথ এক নয়। কেউ পুরোপুরি মদ্যপান থেকে বিরত থাকার পথ বেছে নেন, আবার কেউ ধীরে ধীরে অন্য ধরনের নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় যেতে পারেন। তার ভাষায়, পুনরুদ্ধার কোনো সরলরেখায় এগোয় না; সময়ের সঙ্গে মানুষের অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক ও আসক্তি গবেষক কিথ হামফ্রিসও পিটের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অজানা বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, যাদের দীর্ঘ সময় মদ্যপানের সমস্যা থাকার পর আবার পরিমিত মদ্যপানে ফেরার সম্ভাবনা থাকে, তাদের মধ্যে সাধারণত কয়েকটি বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।

হামফ্রিস বলেন, তাদের মদ্যপানের ওপর নির্ভরতার মাত্রা তুলনামূলক কম থাকতে পারে, সামাজিক সহায়তার ভিত্তি শক্ত হতে পারে এবং গুরুতর মানসিক সমস্যাও নাও থাকতে পারে। তবে এগুলো কোনো নিশ্চয়তা দেয় না বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। পিটের অতীতের মদ্যপানের সমস্যা কতটা গুরুতর ছিল, সেটিও প্রকাশ্যে পুরোপুরি জানা যায় না।

শ্র্যাঙ্ক বলেন, আসক্তি থেকে পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে মানুষের ওঠানামা অস্বাভাবিক নয়। দীর্ঘ সময় ধরে পরিবর্তন ধরে রাখার পরও কারও অবস্থার অবনতি হতে পারে। তাই পিটের বর্তমান পরিস্থিতিকে ঘিরে অতিরিক্ত নৈতিক আতঙ্ক তৈরি করা তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

তবে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে অ্যালকোহল গ্রহণের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও উঠে এসেছে। শ্র্যাঙ্ক উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে অ্যালকোহলকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত বলা হচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ২০২৩ সালে জানিয়েছিল, স্বাস্থ্যের জন্য অ্যালকোহল গ্রহণের এমন কোনো মাত্রা নির্ধারণ করা যায় না যেটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায়।

ফলে ব্র্যাড পিটের ক্ষেত্রে তিনি ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিতভাবে মদ্যপান চালিয়ে যেতে পারবেন কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো তথ্য এখনো নেই। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, তার পুনরুদ্ধারের পথ ব্যক্তিগত এবং পরিবর্তনশীল হলেও অ্যালকোহল গ্রহণের স্বাস্থ্যঝুঁকি আলাদা একটি বিষয় হিসেবে থেকেই যাচ্ছে। সূত্র: দ্য হলিউড রিপোর্টার

এএস
আরও পড়ুন