মানসিক চাপে গর্ভপাত, দায় পড়লো থালাপতির ওপর

আপডেট : ০১ জুন ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

দক্ষিণী অভিনেতা ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়কে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিনেত্রী ও সাবেক নার্স জুলি অভিযোগ করেছেন, বিজয়পন্থী সমর্থকদের দীর্ঘদিনের অনলাইন ট্রোলিং, কটূক্তি এবং মানসিক হয়রানির কারণে তিনি চরম মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছিলেন এবং এর ফলেই গর্ভপাতের শিকার হন।

সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জুলি জানান, বিয়ের পর তিনি তার প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে এবং তার স্বামীকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং অপপ্রচার চালানো হয়। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ড তাকে গভীর মানসিক সংকটের মধ্যে ঠেলে দেয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই চাপ তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

একপর্যায়ে তিনি গর্ভপাতের শিকার হন বলে অভিযোগ করে জুলি বলেন, 'আমার সন্তান হারানোর জন্য বিজয় দায়ী।' তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, থালাপতি বিজয় সরাসরি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তার অভিযোগ, সমর্থকদের লাগামহীন আচরণ ও অনলাইন হয়রানি বন্ধে বিজয়ের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

জুলির দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে সংগঠিতভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এমনকি তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করার পর তার বিরুদ্ধে কথিত ‘১৫ লাখ টাকার কিডনি কেলেঙ্কারি’ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা তিনি পরিকল্পিত চরিত্রহননের অপচেষ্টা বলে মনে করেন।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে পরে তাকে জানানো হয়, বিষয়টি ফৌজদারি অপরাধের পরিবর্তে দেওয়ানি মানহানির আওতায় বিবেচিত হতে পারে।

জুলি মনে করেন, রাজনৈতিক সমর্থকদের একটি অংশ সমালোচকদের হয়রানি বা ব্যক্তিগত আক্রমণে জড়ানোর পরিবর্তে জনস্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ও জননন্দিত ব্যক্তিত্বদের তাদের অনুসারীদের আচরণ সম্পর্কে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত থালাপতি বিজয় কিংবা তার রাজনৈতিক দল কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

AS
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত