শীতকালে কখনো কখনো এমন দিন আসে যখন সহজে সূর্যের আলো দেখা যায় না। কারণটা হলো ধূসর রঙা ঘন কুয়াশার চাদর। তখন কয়েক হাত দূরত্বেই আমাদের দৃষ্টিসীমা আটকে যায়। কুয়াশা ভেদ করে কিছুই স্পষ্ট দেখা যায় না।
এমনকি ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন, সড়কে দুর্ঘটনা, বিমান ওঠানামা স্থগিত, ফেরি বা নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার উদাহরণও রয়েছে।
কিন্তু কুয়াশা আসলে কী, কীভাবে এবং কেন এটি তৈরি হয়? শীতেই কেন এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি হয়? আবহাওয়ার ওপর এটি কী ধরনের প্রভাব ফেলে?
আবহাওয়াবিদরা কুয়াশাকে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি তৈরি হওয়া এক ধরনের নিচু মেঘ বা 'লো ক্লাউড' হিসেবে বর্ণনা করেন। কুয়াশা তৈরির পেছনে বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার পার্থক্য দায়ী থাকে। অন্য সময়ের তুলনায় শীতকালেই কুয়াশার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ বলেন, শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকায় মাটিতে থাকা আর্দ্রতা ধীরে ধীরে উপরে উঠে আসে এবং বাতাস শিশিরাঙ্কে পৌঁছালে, অর্থাৎ ঠান্ডা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ক্ষুদ্র জলকণায় রূপ নেয়। জলকণাগুলো বাতাসে ভেসে থাকলেই কুয়াশা তৈরি হয়। দিনে সারফেসে যা তাপমাত্রা আসে, রাতে তা চলে যায়। কোনও কারণে সারফেস দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে গেলে, অর্থাৎ উপরের তাপমাত্রার চেয়ে নীচের তাপমাত্রা কম হলে কুয়াশা তৈরি হয়।
আবার অনেকে মনে করেন কুয়াশা, মিস্ট আর স্মগ একই জিনিস। তবে, কুয়াশা, মিস্ট আর স্মগ—এই তিনটি শব্দ প্রায়ই একসঙ্গে ব্যবহৃত হলেও এগুলো এক নয়।
কুয়াশা, মিস্ট আর স্মগের পার্থক্যটা কোথায়? পার্থক্যটা মূলত এগুলো তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া ও দৃশ্যমানতার মাত্রার ওপর নির্ভর করে।
মাটির কাছাকাছি বাতাসে থাকা আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে ক্ষুদ্র জলকণায় রূপ নিলে কুয়াশা সৃষ্টি হয়। সাধারণভাবে দৃশ্যমানতা এক কিলোমিটারের কম হলে তাকে কুয়াশা বলা হয়।
মিস্টও একই প্রক্রিয়ায় তৈরি হলেও এর ঘনত্ব তুলনামূলক কম থাকে। ফলে দৃশ্যমানতা কিছুটা বেশি দেখা যায়। এক কিলোমিটারের বেশি দৃশ্যমানতা থাকলে সেটিকে মিস্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাস্তবে অনেক সময় মিস্টকে হালকা কুয়াশা হিসেবেই ধরা হয়।
অন্যদিকে স্মগ তৈরির ধরন আলাদা। ‘স্মোক’ (ধোঁয়া) ও ‘ফগ’ (কুয়াশা) শব্দের সমন্বয়ে এসেছে স্মগ। এটি ধোঁয়া ও কুয়াশার মিশ্রণ, যেখানে বায়ুদূষণের ক্ষতিকর কণা বাতাসে জমে থাকে। শিল্পকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়ার কারণেই মূলত স্মগ তৈরি হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ক্ষতিকর।
কুয়াশা ও মিস্ট প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা হলেও স্মগ মানুষের সৃষ্ট বায়ুদূষণের ফল।
ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন মতে, কুয়াশা সাধারণত চারপাশকে সাদা পর্দার মতো আচ্ছাদিত করে রাখে, যেখানে দৃশ্যমানতা বেশ কমে যায়। বিপরীতে মিস্ট তুলনামূলকভাবে পাতলা হয় এবং ধূসর রঙের এক ধরনের আবরণ তৈরি করে। তবে কুয়াশার সঙ্গে ধুলো বা ধোঁয়া মিশে গেলে সেটিতে হালকা ভিন্ন রঙের আভাও দেখা যেতে পারে।
কুড়িগ্রামে বৃষ্টির ফোঁটার মতো ঝরছে কুয়াশা
চুয়াডাঙ্গায় ৬ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা, শীতে স্থবির জনজীবন
