সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল নির্ধারণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরবর্তী সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রককে (সিজিএ)।
এই কমিটি তিনটি পৃথক কমিশন (জাতীয়, বিচার বিভাগীয় ও সশস্ত্র বাহিনী) কর্তৃক জমা দেওয়া প্রতিবেদনের বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করবে। এরপর বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন বা পরিবর্তনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা তৈরি করে সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করবে।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গত ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২১ সদস্যের একটি নতুন বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে গত ২১ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে সুপারিশমালা জমা দেন কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খান। সেই প্রতিবেদনের আলোকেই এখন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করল সরকার।

