আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক

গুজব ও বিশৃঙ্খলা রোধে জরুরী ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৭ এএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রান্তিক পর্যায়ের পূজামণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং পূজারীদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ সুদৃঢ় করতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) পূর্ব চান্দরা শ্রী শ্রী কালী ও দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। 

 

এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দায়িত্বশীলতা, সতর্কতা ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

পরিদর্শনকালে মহাপরিচালক বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে ২ লাখ ১২ হাজারেরও বেশি আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যা মোতায়েন রয়েছেন। পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় ১০৪টি স্ট্রাইকিং টিম সারাদেশে কাজ করছে। প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার আওতায় তথ্য প্রদানকারী, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সমন্বিতভাবে সংযুক্ত রয়েছেন ' শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপসে'। এর ফলে মাঠপর্যায়ের তথ্য দ্রুত আদান-প্রদান, পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হচ্ছে।

 

তিনি উল্লেখ করেন,  তৃণমূল থেকে শুরু করে শহরাঞ্চল পর্যন্ত আনসার- ভিডিপির প্রতিটি সদস্য নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো সংকট ও প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ সর্বদা আনসার-ভিডিপিকে পাশে পাবে। একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্‌যাপন কমিটি এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত প্রয়াস অপরিহার্য।

 

মহাপরিচালক বলেন, কোনো গোষ্ঠী যাতে গুজব, উসকানি কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ধৈর্য, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সব ধরনের বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে উৎসবের স্বাভাবিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

 

বাহিনীর জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি কর্মহীন যুবক-যুবতীদের আনসার-ভিডিপির বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক ও আয়বর্ধক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে আত্মকর্মসংস্থান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’-এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ বেকারত্ব হ্রাস, জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

 

 

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিশ্বাস করে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক সচেতনতা এবং সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজায় বাহিনীর সদস্য-সদস্যারা দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন।

এইচএন
আরও পড়ুন