এক সপ্তাহে একটি বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ এবং আরেকটি বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। আবার নতুন একটি বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার তারিখ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে পিএসসির কার্যক্রমে গতি আসছে।
তবে বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী বলেছেন, এই গতি আরও বাড়াতে হবে। কেননা, পিএসসি অনেক দিন স্থবির ছিল।
এদিকে পিএসসি বলছে, গতি ধরে রেখে বিসিএসের কার্যক্রম আরও দ্রুত করার পরিকল্পনা আছে প্রতিষ্ঠানটির।
৪৮তম বিসিএস পরীক্ষা ১৮ জুলাই
পিএসসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১২টা। পরীক্ষার হল, আসনব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা যথাসময়ে পিএসসির ওয়েবসাইট এ ও টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পিএসসি।
৪৮তম বিশেষ বিসিএসে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। মেডিকেল সায়েন্স বিষয়ে ১০০ এবং সাধারণ বিষয়ে ১০০ নম্বরে এ পরীক্ষা হবে। সাধারণ বিষয়ের ১০০ নম্বরের মধ্যে বাংলায় ২০, ইংরেজি ২০, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ২০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ২০, মানসিক দক্ষতা ১০ ও গাণিতিক যুক্তিতে ১০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে।
৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে তিন হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে সহকারী সার্জন নেওয়া হবে ২ হাজার ৭০০ জন। আর সহকারী ডেন্টাল সার্জন নেওয়া হবে ৩০০ জন।
৪৫তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা শুরু ৮ জুলাই
৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে সাধারণ ক্যাডারের ৪৮১ জন এবং সাধারণ ও কারিগরি/পেশাগত উভয় ক্যাডারের পদের ১০৪ জন রেজিস্ট্রেশন নম্বরধারী প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। পিএসসির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা ৮ জুলাই শুরু হবে। পরীক্ষা চলবে ১৫ জুলাই পর্যন্ত। ঢাকার শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে পিএসসির প্রধান কার্যালয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল
৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে পিএসসি। গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৭১০টি শূন্য পদের বিপরীতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১ হাজার ৬৯০ জনকে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে মনোনীত করেছে পিএসসি।
পিএসসি বলেছে, যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী না পাওয়ায় কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের ২০টি পদে প্রার্থী মনোনয়ন করা সম্ভব হয়নি।
মনোনয়নসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য কমিশন ও টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
পিএসসি জানিয়েছে, প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তিসংগত কারণে কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হলে কমিশন তা সংশোধনের অধিকার সংরক্ষণ করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় কৃতকার্য হলেও সব প্রার্থীকে ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত করা সম্ভব হয়নি। যেসব প্রার্থীকে ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত করা সম্ভব হয়নি, তাঁদের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের বিধান অনুযায়ী সরকারের কাছ থেকে শূন্য পদে নিয়োগের অধিযাচনপ্রাপ্তি সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে মেধাক্রম ও বিদ্যমান বিধিবিধান অনুসরণ করে সুপারিশের লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
পিএসসির কার্যক্রমের গতিশীলতা বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির এক সদস্য বলেন, ‘নানা ইস্যু ছিল আমাদের সামনে। এখন সব কটিই আমাদের নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। আমরা একে একে বিসিএসগুলোর কার্যক্রম শেষ করার চেষ্টা করছি। দ্রুতই আরও অগ্রগতি দেখা যাবে।’
পিএসসির গতি আরও বাড়াতে হবে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা চাকরিপ্রার্থী সাব্বির হোসেন। তিনি বলেন, ‘গত ১০ মাসে আমরা যে গতি আশা করেছিলাম, পিএসসি তা দেখাতে পারেনি। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখন কিছুটা গতিতে ফিরেছে। এটি আরও বাড়াতে হবে। এমনিতে অনেক বিসিএসের চাপে পড়ে আছে পিএসসি। আমরা দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাই। সে জন্য যদি নতুন সদস্য নিতে হয়, সেটিও সরকার বিবেচনা করে দেখতে পারে।’
