রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য: তারেক রহমান

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম

আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে দেশপ্রেমিক ও দেশবিরোধীদের লড়াই হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই শান্তিতে বাস করবে। কারণ রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য।’  

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর উপশহর উদ্যানে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটি চক্র এনআইডি ও বিকাশ নম্বর নিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। ভোট গণনায় দেরি করার উসিলায় কারচুপির চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতে হবে।

তারেক রহমান বলেছেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। ৫ আগস্টের পর একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল নারীদের অবমাননা করছে এবং তাদের ঘরের ভেতরে আটকে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় তারেক রহমান আরও বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার প্রসারে মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিটি পরিবারের গৃহিণীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব, যার মাধ্যমে মায়েরা প্রতি মাসে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন।

গার্মেন্টস শিল্পের উন্নয়ন ও দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপি উন্নয়নের রাজনীতি করে, উন্নয়নের নামে প্রতারণা করে না। সরকার গঠন করলে কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দেওয়া হবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সূচিত খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, উলশী খালসহ সারা দেশের বন্ধ হওয়া খালগুলো খনন করে ফসলের উৎপাদন দ্বিগুণ করা হবে।

যশোর অঞ্চলের সম্ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এখানকার ফুল চাষকে আধুনিকায়ন করে বিদেশে রফতানির ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করে আখ চাষিদের ভাগ্যেন্নয়ন এবং চিনি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। বেকারত্ব দূর করতে প্রতিটি এলাকায় ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও আইটি পার্ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে তিনি ‘করব কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে উপস্থিত জনতাকে উজ্জীবিত করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা মেহেদী আহমেদ ধ্বনি, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম এবং খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

SR
আরও পড়ুন