নির্বাচনের দিন সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের শিকার তারেক রহমান

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ১০৪টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘রিউমর স্ক্যানার’। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত অন্তত ১,০২৪টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।

‘দিনের ভোট রাতে নেওয়া হচ্ছে’—এমন দাবিতে নির্বাচনের আগের রাতে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে দেখেছে, এটি ২০২৪ সালের একটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জাল ভোটের দৃশ্য। 

এছাড়া ব্যালটে সিল মারার আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যা আসলে এআই (AI) দিয়ে তৈরি। বাংলাদেশের নির্বাচনি সংস্কৃতিতে ২০১৮ সালের ‘রাতের ভোট’ টার্মটিকে ব্যবহার করে এবার অন্তত আটটি এমন বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়েছে, যেগুলো হয় পুরোনো, না হয় এআই কিংবা পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বড় কোনো সংঘাত না হলেও কয়েকটি স্থানে হামলা-পাল্টা হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে অন্তত চারটি ভিডিও পাওয়া গেছে, যেখানে সেনাবাহিনী বা বিভিন্ন বাহিনীর মহড়ার ভিডিওকে ভোটকেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স চুরির ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। যেমন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের একটি সংঘর্ষের ভিডিও ছড়ানো হলেও সেটি ছিল মূলত ২০২১ সালের। জামালপুরে সংখ্যালঘু পল্লীতে ভাঙচুরের যে ভিডিওটি জামায়াতে ইসলামীর নামে চালানো হয়েছে, সেটিও নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে থেকেই ইন্টারনেটে বিদ্যমান ছিল।

এবারের নির্বাচনে ১৮ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে তারা ‘ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন’ এমন অপতথ্য ছড়ানো হয়। তালিকায় বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপির প্রার্থীরা থাকলেও সবচেয়ে বেশি ১০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অপতথ্যের শিকার হন। পটুয়াখালী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন সরে দাঁড়িয়েছেন এমন একটি অপতথ্য বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নুরুল হক নুরকেও তার ফেসবুক পেজে প্রচার করতে দেখা গেছে।

ভোটের মাঠে ৪৫ জন প্রার্থী সরাসরি অপতথ্যের শিকার হয়েছেন। তারেক রহমানকে নিয়ে সর্বাধিক ১২টি অপতথ্য পাওয়া গেছে। নারী প্রার্থীদের মধ্যে ফরিদপুর-২ আসনের শামা ওবায়েদ ইসলাম সবচেয়ে বেশি (৩টি) অপতথ্যের শিকার হয়েছেন। অপতথ্য ছড়ানোর প্রধান হাতিয়ার ছিল ফটোকার্ড (৩৯টি), এআই-ডিপফেক (৭টি), ভুয়া বক্তব্য (১৮টি) এবং পুরোনো বা মহড়ার ভিডিও।

দলভিত্তিক বিশ্লেষণে বিএনপি সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৫২টি অপতথ্যের শিকার হয়েছে, যার ৮৮ শতাংশই নেতিবাচক। তারেক রহমানকে নিয়ে ছড়ানো অপতথ্যের ৯২ শতাংশই নেতিবাচক ছিল। 

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে ২১টি অপতথ্য পাওয়া গেছে যার ৭১ শতাংশ নেতিবাচক। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ঘিরে ১০টি অপতথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে সারজিস আলম সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের শিকার হয়েছেন।

নির্বাচনের আগের রাতে সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহের একটি গুজব ৫ হাজারের বেশি এনগেজমেন্ট পায়। তবে আইএসপিআর রিউমর স্ক্যানারকে নিশ্চিত করেছে যে, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

এছাড়া ডিএমপি কমিশনার এসএম সাজ্জাত আলীর একটি ভিডিও কেটে এমনভাবে প্রচার করা হয় যেন তার নিজের ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছে। আসলে তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনের একটি অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন, যা এডিট করে বর্তমানের দাবি হিসেবে চালানো হয়।

সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা বাহিনী কেন্দ্রিক ১৭টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১২টিই ছিল সেনাবাহিনীকে কেন্দ্র করে।

DR/AHA
আরও পড়ুন