বাস্তবায়ন অযোগ্য ও লুটপাটের বাজেট: জামায়াতে ইসলামী

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

সরকারের প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ঋণনির্ভর, বাস্তবায়ন অযোগ্য ও লুটপাটের সহায়ক বলে আখ্যা দিয়েছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এ বাজেটে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নেই; বরং অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীতে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেট বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের বিপরীতে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনের সুনির্দিষ্ট কৌশল তুলে ধরা হয়নি। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা হবে, সে বিষয়েও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা নেই।

গোলাম পরওয়ারের মতে, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে ব্যাপকভাবে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। এতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ সংকুচিত হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যুক্ত হওয়ায় বাজেট বাস্তবায়ন এবং রাজস্ব আহরণ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সরকার ঘোষিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাকে অবাস্তব উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা যেখানে কম প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, সেখানে সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, স্বনির্ভর অর্থনীতি গঠন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের কার্যকর কোনো রূপরেখা এ বাজেটে নেই। বরং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বৃদ্ধি করে দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ন্যূনতম ব্যক্তিগত করের হার ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, এতে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। মূল্যস্ফীতির কারণে এমনিতেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তাদের বাজেটের আকার ছিল ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা, যা তুলনামূলকভাবে কম ঘাটতি ও কম ঋণনির্ভর। সরকারের বাজেটের তুলনায় এটি বেশি বাস্তবসম্মত এবং অর্থনীতির জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার গঠনমূলক সমালোচনা ও প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে বাজেট সংশোধন করবে এবং ব্যাংকিং খাতসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে বিদ্যমান অনিয়ম দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

AS
আরও পড়ুন