যেভাবে জীবন বাঁচায় ইজেকশন সিট, আকাশযুদ্ধের শেষ ভরসা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

ইরান যুদ্ধে ভূপাতিত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে ইজেকশন সিট ব্যবহার করে বেরিয়ে গেছেন এক পাইলট আর তাকে ঘিরেই এখন তীব্র খোঁজাখুঁজি। পাইলটকে উদ্ধারে মরিয়া ওয়াশিংটন একের পর এক অভিযান চালাচ্ছে, অন্যদিকে তেহরানও তাকে খুঁজে পেতে তৎপর। ইতোমধ্যে অনুসন্ধানে যাওয়া একটি হেলিকপ্টারও ভূপাতিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই নাটকীয় প্রেক্ষাপটেই আবার আলোচনায় এসেছে যুদ্ধবিমানের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ইজেকশন সিট, যা শেষ মুহূর্তে পাইলটের জীবন বাঁচানোর চূড়ান্ত উপায়।

ইজেকশন সিট কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

ইজেকশন সিট মূলত এমন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা জরুরি পরিস্থিতিতে পাইলট বা ক্রু সদস্যকে মুহূর্তের মধ্যে বিমান থেকে বাইরে ছুড়ে বের করে দেয়। বিশেষ করে যুদ্ধবিমানে, যেখানে গতি অত্যন্ত বেশি এবং দুর্ঘটনা বা আঘাতের ঝুঁকি মারাত্মক, সেখানে এই প্রযুক্তি জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য গড়ে দেয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এর কার্যকর ব্যবহার শুরু হলেও আধুনিক যুগে এটি অত্যন্ত উন্নত ও নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে।

কীভাবে কাজ করে ইজেকশন সিট

একটি ইজেকশন সিস্টেম সাধারণত কয়েকটি ধাপে কাজ করে সবকিছু ঘটে কয়েক সেকেন্ডের ভেতরে: প্রথমে ককপিটের ক্যানোপি বা ছাদটি খুলে যায় বা বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয়। কিছু আধুনিক বিমানে সিট সরাসরি ক্যানোপি ভেঙেও বেরিয়ে যেতে পারে।

এরপর পাইলট সিটসহ শক্তিশালী বিস্ফোরক চার্জ বা রকেট মোটরের সাহায্যে উপরের দিকে ছিটকে বেরিয়ে যান। এই সময় শরীরের ওপর প্রচণ্ড জি-ফোর্স পড়ে, যা কয়েক সেকেন্ডে ১২ থেকে ২০ গুণ মাধ্যাকর্ষণ বলের সমান হতে পারে।

বিমান থেকে নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছানোর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্যারাসুট খুলে যায়। তখন পাইলট ধীরে ধীরে মাটিতে বা পানিতে অবতরণ করেন।

যুদ্ধবিমানে বিশেষ সুবিধা

আধুনিক যুদ্ধবিমানের ইজেকশন সিটে রয়েছে ‘জিরো-জিরো’ সক্ষমতা অর্থাৎ শূন্য উচ্চতা ও শূন্য গতিতেও পাইলটকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব। এতে নিচে থাকা অবস্থাতেও দুর্ঘটনা ঘটলে পাইলট বেঁচে যাওয়ার সুযোগ পান।

এছাড়া কিছু উন্নত সিটে ছোট ড্র্যাগ প্যারাসুট, স্বয়ংক্রিয় স্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং এমনকি উচ্চগতির বায়ুপ্রবাহ থেকে শরীর রক্ষার ঢালও থাকে।

অন্যান্য বিমানে ব্যবহার

শুধু যুদ্ধবিমান নয়, পরীক্ষামূলক বিমান বা কিছু বিশেষ সামরিক প্ল্যাটফর্মেও ইজেকশন সিট ব্যবহৃত হয়। তবে বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানে এটি ব্যবহার করা হয় না কারণ সেখানে উচ্চতা, গঠন ও যাত্রীসংখ্যার কারণে এ ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবসম্মত নয়।

ঝুঁকি ও বাস্তবতা

ইজেকশন সিট জীবন বাঁচালেও এটি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। প্রচণ্ড জি-ফোর্সের কারণে মেরুদণ্ডে আঘাত লাগা বা হাড় ভাঙার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। তবুও নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যুদ্ধবিমান থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

AS/
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত