বিকল ইঞ্জিন নিয়ে প্রথমবার পৃথিবীর কক্ষপথে স্পেসএক্সের স্টারশিপ

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ার পরও প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছেছে স্পেসএক্সের পরবর্তী প্রজন্মের রকেট স্টারশিপ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের স্টারবেস উৎক্ষেপণকেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে গিয়ে এই সাফল্য অর্জন করে ৪০ তলা সমান উচ্চতার যানটি।

সুপার হেভি বুস্টারের ওপর স্থাপিত মূল স্টারশিপ যান নিয়ে গঠিত রকেটটি মেক্সিকো উপসাগরের কাছে ব্রাউনসভিলের স্টারবেস কমপ্লেক্স থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি ছিল স্টারশিপের ১৪তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন এবং এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী মহাকাশ অভিযান।

উড্ডয়নের পর একটি ইঞ্জিন নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে গেলে স্পেসএক্সের সরাসরি সম্প্রচারে কোম্পানির মুখপাত্র ড্যান হুয়ট প্রথমে জানান, স্টারশিপ আর কক্ষপথে পৌঁছাতে পারবে না। তবে কয়েক মিনিট পর প্রকৌশলীদের কাছ থেকে নতুন তথ্য পাওয়ার পর তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেন। প্রকৌশলীরা নিশ্চিত করেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিন চালু করে যানটিকে কক্ষপথে নেওয়ার চেষ্টা এখনো সম্ভব।

পরবর্তীতে সেই প্রচেষ্টায় সফল হয় স্টারশিপ। নতুন কোনো রকেটের জন্য কক্ষপথে পৌঁছানো মহাকাশে পেলোড বহনের সক্ষমতার অন্যতম প্রধান পরীক্ষামাপক। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর স্টারশিপ প্রথমবার এই মাইলফলক অর্জন করল।

স্টারশিপকে মূলত স্পেসএক্সের স্টারলিংক কৃত্রিম উপগ্রহগুলো আরও ঘন ঘন উৎক্ষেপণ এবং ভবিষ্যতে নাসার চাঁদে যাওয়ার অভিযানে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। এবারের পরীক্ষামূলক অভিযানে প্রথমবারের মতো ২৬টি স্টারলিংক তৃতীয় প্রজন্মের কৃত্রিম উপগ্রহ কক্ষপথে স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্টারশিপকে প্রায় ১০ ঘণ্টার অভিযানে পৃথিবীকে ছয়বার প্রদক্ষিণ করার কথা। এরপর চিলির পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের কথা রয়েছে যানটির।

স্টারশিপের কক্ষপথে পৌঁছানোর এই সাফল্য স্পেসএক্সের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানও ঘটাল। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ইলন মাস্ক একসময় ২০২২ সালেই স্টারশিপের কক্ষপথে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছিলেন এবং ২০২৩ সালে কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ শুরু হবে বলে আশা করেছিলেন।

তবে ২০২৩ সালের পর স্টারশিপের আগের ১৩টি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নই কক্ষপথের নিচের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। প্রায় এক দশকের উন্নয়ন কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত স্টারশিপ প্রকল্পে স্পেসএক্সের ব্যয় ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে।

মাস্কের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বছরে শত শত এমনকি হাজার হাজার স্টারশিপ উৎক্ষেপণ করা। বাস্তবায়িত হলে মহাকাশ শিল্পে এটি হবে নজিরবিহীন উৎক্ষেপণ হার। সূত্র: রয়টার্স

এএস
আরও পড়ুন