অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে মাকড়সার মতো দেখতে এক অদ্ভুত ভূপ্রাকৃতিক কাঠামোর ছবি ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট। বিজ্ঞানীদের ধারণা, কোটি কোটি বছর আগে একটি উল্কাপিণ্ডের আঘাতে এই গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষয়প্রক্রিয়ার কারণে গর্তটির চারপাশে মাকড়সার পায়ের মতো শিলাস্তর তৈরি হয়েছে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, ‘স্পাইডার ক্রেটার’ নামে পরিচিত এই ভূপ্রাকৃতিক কাঠামোটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিম্বারলি অঞ্চলে অবস্থিত। গত ২০ সেপ্টেম্বর নাসা ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) যৌথ ল্যান্ডস্যাট-৯ স্যাটেলাইটের অপারেশনাল ল্যান্ড ইমেজার (ওএলআই) যন্ত্রে এর ছবি ধরা পড়ে।
পুরো উল্কাপিণ্ডের আঘাতে তৈরি কাঠামোটি ডিম্বাকৃতির। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১১ কিলোমিটার। মাঝখানের মাকড়সার মতো দেখতে অংশটির বিস্তার প্রায় ৪ কিলোমিটার।
যেভাবে তৈরি হয়েছে মাকড়সার মতো নকশা
ভূতত্ত্ববিদদের ধারণা, গর্তের মাঝখানে থাকা উঁচু অংশটি একসময় উল্কাপিণ্ডের আঘাতে সৃষ্ট গর্তের তলদেশ থেকে উঠে এসেছিল। শক্তিশালী আঘাতের পর ভূ-পৃষ্ঠের শিলা কিছুটা ফিরে আসার কারণে এ ধরনের উঁচু অংশ তৈরি হতে পারে। ভূতত্ত্বে একে ‘সেন্ট্রাল আপলিফট’ বলা হয়।
গর্তটির চারপাশে মাকড়সার পায়ের মতো ছড়িয়ে থাকা হালকা রঙের রেখাগুলো মূলত বেলেপাথরের শৈলশিরা। দীর্ঘ সময় ধরে বাতাস, পানি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় আশপাশের শিলাস্তর ক্ষয়ে গেলেও তুলনামূলকভাবে শক্ত এসব শিলাস্তর টিকে রয়েছে। এভাবেই তৈরি হয়েছে অদ্ভুত মাকড়সার মতো নকশা।
উল্কাপিণ্ডের আঘাতের প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা স্পাইডার ক্রেটারের উৎপত্তি নিয়ে গবেষণা করেছেন। একসময় কেউ কেউ মনে করতেন, এটি আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের ফলে তৈরি হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের গবেষণায় প্রাচীন উল্কাপিণ্ডের আঘাতের পক্ষে বিভিন্ন প্রমাণ পাওয়া যায়।
এর মধ্যে রয়েছে শিলার ভেতরে পাখার মতো ছড়িয়ে থাকা বিশেষ ধরনের ফাটল, যেগুলোকে ‘শ্যাটার কোন’ বলা হয়। শক্তিশালী আঘাতের ফলে সৃষ্ট শক ওয়েভ শিলার মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়লে এ ধরনের ফাটল তৈরি হতে পারে। গর্তের কেন্দ্রীয় উঁচু অংশজুড়ে এসব চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া বেলেপাথরের মধ্যে থাকা আঘাতে পরিবর্তিত কোয়ার্টজ ও জিরকন স্ফটিক নিয়েও গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানীরা। পরীক্ষাগারে এসব খনিজ বিশ্লেষণ করে উল্কাপিণ্ডটি কী কোণে ভূপৃষ্ঠে আঘাত করেছিল, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
তবে উল্কাপিণ্ডের আঘাতের সঠিক সময় এখনো জানা যায়নি। গবেষকেরা খনিজ ও শিলার বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে এই প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক ঘটনার আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
একটি শিশুও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না: ববি হাজ্জাজ
ব্যর্থতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, ফাঁদে পড়লেন ইশরাক: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী