ইংল্যান্ডকে ৮৭ রানে হারালো পাকিস্তান

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৬ এএম

দলের বিপর্যয়ে ব্যাটহাতে দায়িত্ব নিলেন আরাফাত মিনহাজ। দুই জুটি মিলিয়ে হাফসেঞ্চুরি করে দলকে এনে দিলেন বড় পুঁজি। তবে নিজের আসল শক্তি তখনো দেখাননি তিনি। বোলিংয়ে নেমে স্পিনবিষে নীল করেন ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের। ৬ উইকেট তুলে নিয়ে একাই ইংলিশ ব্যাটিং লাইনকে গুটিয়ে দিয়ে বড় জয় এনে দেন পাকিস্তানকে।

 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩০২ রানের পুঁজি দাঁড় করিয়েছে পাকিস্তান। জবাব দিতে নেমে ৩৮.৪ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ২১৫ রান তুলতে পারে ইংল্যান্ড। পাকিস্তান জয় তুলে নেয় ৮৭ রানে। ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দুটি জয় তুলে নিল পাকিস্তান।

 

রান তাড়ায় নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল ইংল্যান্ড। উদ্বোধনী জুটিতে ৯১ রান তুলে ফেলেছিলেন বেন ডাকেট আর টম ব্যান্টন। পাকিস্তানি বোলারদের শাসন করে দারুণভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। ১৫তম ওভারে এসে ইংলিশ শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন হারিস রউফ। ৪৬ বলে ৪৫ রান করা ডাকেটে ফেরান তিনি।

 

আরেক ওপেনার ব্যান্টনও আর বেশিদূর যেতে পারেননি। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে আরাফাত মিনহাজের শিকার হয়ে ফেরেন তিনি। ৫৩ বলে ৫৭ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এক উইকেটে ১২০ রান তুলে ফেলা ইল্যান্ড পরের ৯৫ রান তুলতেই হারায় বাকি আট উইকেট।

 

দুই ওপেনার ফেরার পরই শুরু হয় ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ধস। এরপর আর কোনো ব্যাটারই দায়িত্ব নিতে পারেননি। থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি কোনো জো রুট, জর্ডান কক্স, উইল জ্যাকসরা। আগের ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি করা আরাফাত মিনহাজের স্পিন বিষে নীল হয়েছে তারা। তিনি একাই তুলে নিয়েছেন ৬ উইকেট।

 

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে এ ম্যাচেও শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম বলেই ফিরে যান ওপেনার ফখর জামান। আরেক ওপেনার সাইম আইয়ুবও ফেরেন দ্রুতই। ষষ্ঠ ওভারে সনি বেকারের বলে ফেরার আগে ৬ বলে ৮ রান আসে তার ব্যাট থেকে। টানা দুই ম্যাচেই ব্যর্থ হলেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার।

 

তিন নম্বরে নামা অভিজ্ঞ বাবর আজম শুরুটা ভালোই পেয়েছিলেন। ৫০ বলের ওপরে খেলে উইকেটে থিতুও হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরপরই ফেরেন উইকেট দিয়ে। ৫২ বল থেকে ৩৪ রান করেন তিনি। সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ভালো শুরুর পর ইনিংস বড় করতে পারেননি বাবর।

 

আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করে দলের দায়িত্ব নেওয়া সালামান আগও এদিন ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৯ বলে ১৬ রান করে আউট হন সালমান। এতে শতরান পেরোনোর আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান।

 

সেখান থেকে পঞ্চম উইকেটে ৫২ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন সাদ বেগ আর হাসান নাওয়াজ। সাদকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন গাস আটকিনসন। ৫৪ বলে ৩৫ রান করেন তিনি।

 

এরপর আরাফাত মিনহাজকে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে আরেকটি জুটি গড়েন হাসান। এই জুটি থেকে আসে ৭৮ রান। এটাই ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটি। একপ্রান্ত আগলে রেখে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন হাসান। সেঞ্চুরির পথেই হাঁটছিলেন তিনি। তবে এর আগেই তাকে ফেরান ওয়েভারটন। ৭৪ বলে ৭৯ রান করেন তিনি।

 

হাসান ফেরার পর সপ্তম উইকেটে দ্রুত রান তোলেন আরাফাত মিনহাজ আর ফাহিম আশরাফ। মাত্র ৪৯ বল থেকে ৭২ রান আসে এই জুটি থেকে। হাফসেঞ্চুরি তুলে নেওয়া আরাফাত মিনহাজকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন সনি বেকার। ৫৮ বলে ৫৯ রান করেন মিনহাজ।

 

এরপর আরও কিছুটা সময় উইকেটে থেকে ঝড়ো ব্যাটিং করেন ফাহিম। শেষ পর্যন্ত ৫ চার আর এক ছক্কায় ২৮ বলে ৩৯ রান করেন তিনি। এতেই তিনশ রানের কাছে পৌছে যায় পাকিস্তান।

 

ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন সনি বেকার। দুইটি উইকেট নেন গাস আটকিনসন। আর একটি করে উইকেট যায় স্যাম কারান, আদিল রশিদ, জেমি ওয়েভারটন আর উইল জ্যাকসের ঝুঁলিতে।

এইচএন
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত