৩ বছরের শিশু ধরিয়ে দিল পূর্বজন্মের খুনিকে!

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩, ০৯:১০ পিএম

খবরসংযোগ ডেস্ক: ছেলের বয়স মাত্র তিন বছর। এই বয়সে খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্লে গ্রুপের ক্লাস মানেই শুধু খেলা। কিন্তু তার মুখ থেকে বের হওয়া কথা শুনে বাবা-মা ছাড়াও স্বজনরা হতবাক।

ছেলেটি খুবই স্বাভাবিক ভাবে বলতে শুরু করে তার পূর্বজন্মের কথা। কী পরিণতি হয়েছিল, তাও সে বলে দেয় এ জন্মের বাবা-মাকে। এমনকি তার পরিণতির জন্য কারা দায়ী, তা-ও জানিয়েছিল সে। সেই নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছিল।

ঘটনা সিরিয়ার গোলান হাইট অঞ্চলের। তিন বছর বয়সে সেখানকার একটি শিশু দাবি করে, আগের জন্মে তাকে কুঠার দিয়ে খুন করা হয়েছিল। কে করেছিল, তা-ও নাকি জানে সে। শিশুটি ড্রুজ় সম্প্রদায়ের। পশ্চিম এশিয়ায় ওই সম্প্রদায়ের বাস। আরবিতে কথা বলে তারা। ইসরাইলে মোট জনসংখ্যার দুই শতাংশ হচ্ছে আদি জনজাতি ড্রুজ়। অষ্টাদশ শতকে ড্রুজ়েরা সিরিয়ায় এসেছিল মূলত লেবানন থেকে।

ড্রুজ় সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, শিশুদের জন্মদাগ আসলে পূর্বজন্মের ইতিহাস বহন করে। আগের জন্মে তার কী ভাবে মৃত্যু হয়েছিল, তা বলে দেয়। সিরিয়ার শিশুটি জানিয়েছিল, তার কপালে কুঠার দিয়ে মেরে খুন করা হয়েছিল। শিশুটির কপালে ছিল একটা লাল দাগ।

শিশুটির কথা শুনে তাকে সেই গ্রামে নিয়ে গিয়েছিলেন বাবা-মা। সে ঠিক কথা বলছে কি না, খতিয়ে দেখতে চাইছিলেন তারা। সেই গ্রামে গিয়েই হতবাক হয়েছিলেন তারা। দেখেন, তিন বছরের শিশু পুরো গ্রামটাই চেনে। গ্রামে গিয়ে তার মনে পড়ে যায় নিজের পূর্বজন্মের নামও। এর পরেই গ্রামে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন তার বাবা-মা। জানতে পারেন, শিশুটির বলা গতজন্মের নামের এক ব্যক্তি ওই গ্রামেই থাকতেন।

গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে শিশুটির বাবা-মা জানতে পারেন, চার বছর আগে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যান সেই ব্যক্তি। অনেক খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সিরিয়ার গ্রামে দাঁড়িয়ে শিশুটি জানায়, তার পূর্বজন্মের খুনির কথা। এরপর সেই ব্যক্তির কাছে গিয়ে সে জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি তো সেই এলি না’? তিনি জবাবে সম্মতি জানান। এরপরই শিশুটি বলে, ‘মনে আছে, আমাদের ঝগড়া হয়েছিল। তুমি আমাকে কুঠার দিয়ে মেরে খুন করেছিলে’?

অভিযুক্ত যদিও প্রথমে কিছুই স্বীকার করেননি। ঘটনাচক্রে, ওই অভিযুক্ত আসলে শিশুটির পূর্বজন্মের প্রতিবেশী ছিলেন। দু’জনের মধ্যে বিবাদের জেরেই খুনটি হয়েছিল বলে দাবি করেছিল শিশুটি। এরপর শিশুটি বাবা-মাকে একটি জায়গায় নিয়ে যায়। দাবি করে, সেখানে তার দেহ পুঁতে দেওয়া হয়েছিল।

মাটি খুঁড়ে একটি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। সেই কঙ্কালের কপালে ছিল আঘাতের চিহ্ন। অদ্ভুত ভাবে, শিশুটিরও কপালের ওই অংশেই ছিল সেই লাল দাগ। যে কুঠার দিয়ে শিশুটিকে আগের জন্মে খুন করা হয়েছিল, সেটিও উদ্ধার করে পুলিশ।

অগত্যা নিজের দোষের কথা স্বীকার করেন ওই খুনি। তাকে গ্রেফতার করা হয়। শিশুটির এই ঘটনা নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন জার্মান থেরাপিস্ট ট্রুটজ় হার্ডো। বইয়ের নাম ‘চিলড্রেন হু হ্যাভ লিভড বিফোর : রিইনকার্নেশন টুড’। তবে পূর্বজন্ম বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। এর স্বপক্ষে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও মেলেনি। সূত্র: ডেইলি মোসন, ইন্ডিয়া টুডে।

#এসএ

আরও পড়ুন