ব্যবসায়িক কাঠামো পুনর্গঠন এবং খরচ কমাতে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ফিনিশ টেলিকম জায়ান্ট নোকিয়া। ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নোকিয়ার বর্তমান মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশই এই ছাঁটাইয়ের কবলে পড়তে যাচ্ছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নোকিয়ার এই কঠোর সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হলো তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যবসার কাঠামোগত পরিবর্তন। ২০২৩ সালে কোম্পানিটি তাদের ক্লাউড ও নেটওয়ার্ক সার্ভিসেস ইউনিটকে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিভাগের সঙ্গে একীভূত করার পর অনেকগুলো বিভাগে একই ধরণের কাজের পুনরাবৃত্তি তৈরি হয়। মূলত পুরো কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করতেই এই ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নোকিয়ার কর্মীসংখ্যা প্রায় ৭৪ হাজারের কিছু বেশি। এর মধ্যে শুধু ভারতের বিভিন্ন প্রযুক্তি ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ১৭ হাজার কর্মী কাজ করছেন। ফলে নোকিয়ার এই বৈশ্বিক ছাঁটাই প্রক্রিয়ার নেতিবাচক প্রভাব ভারতের কর্মীদের ওপর পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে গ্রিস, ইতালি, জার্মানি এবং ফ্রান্সেও প্রায় ১,৪০০ কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতে ব্যয় কমানোর যে প্রবণতা শুরু হয়েছে, নোকিয়ার সিদ্ধান্ত তারই ধারাবাহিকতা। গত কয়েক বছরে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, গুগল এবং মেটার মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি জায়ান্টরাও হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। নোকিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সুইডিশ প্রতিষ্ঠান এরিকসন-ও গত বছর খরচ কমাতে প্রায় ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে নোকিয়ার কর্মীসংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩ হাজারের বেশি, যা ধারাবাহিক পুনর্গঠনের ফলে বর্তমানে ৭৪ হাজারে নেমে এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির প্রসারের এই যুগে সনাতন টেলিকম খাতের এই কর্মীসংকোচন বিশ্ব শ্রমবাজারে এক নতুন অস্থিরতার বার্তা দিচ্ছে।
সিরি-কে উন্নত করতে গুগলের লিলিয়ান রিনকনকে নিয়োগ দিলো অ্যাপল
শিশুদের আসক্ত করার দায়ে মেটা ও গুগলকে ৬০ লাখ ডলার জরিমানা
