নিউক্লিয়ার কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মাঝপথেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত দুইবার ইরানে হামলা চালিয়েছেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
তবে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের সাথে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর জন্য অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, “এক দিন আগের তুলনায় এটি এখন অনেক সহজ, কারণ তারা (ইরান) মারাত্মকভাবে পর্যুদস্ত হচ্ছে।”
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা করেছে তা এখন পর্যন্ত প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম এটি দ্বিগুণ হবে।”
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চের শুরুতে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দ্বন্দ্বে এক অভাবনীয় মোড় এসেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ির প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনা করে। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শীর্ষস্থানীয় অনেক সামরিক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা ইরান রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করেছে এবং দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সামরিক অভিযানকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সক্ষমতা ধ্বংস হওয়ায় এখন তেহরানের সাথে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছানো বা তাদের নতি স্বীকার করানো আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের যুক্তি হলো, ইরান বর্তমানে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে তারা আর আগের মতো শর্ত চাপাতে পারবে না। যদিও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে এবং মার্কিন কূটনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
ইরান এই হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে ট্রাম্পের দাবি, এই প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশার চেয়ে অনেক নগণ্য ছিল। জাতিসংঘ এবং বিশ্বনেতারা এই উত্তেজনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তবে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে এই ‘চরম চাপ’ প্রয়োগের মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানো সম্ভব। বর্তমানে ইরানে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছে এবং দেশটির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে।

