৩৭ বছর একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিপতি ছিলেন খামেনি

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ১১:৩২ এএম

বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় ইরানের শাসন পদ্ধতি বেশ অনন্য ও জটিল। সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হলেও রাষ্ট্রের মূল ক্ষমতা বা ‘ভেটো’ দেওয়ার ক্ষমতা থাকে কেবল ‘সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা’ বা সুপ্রিম লিডারের হাতে। দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে সেই ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিপতি ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

১৯৩৯ সালে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরের এক ধর্মীয় পণ্ডিত পরিবারে জন্ম নেন আলী খামেনি। ধর্মতত্ত্বে উচ্চশিক্ষা শেষে ১৯৬২ সালে তিনি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে শুরু হওয়া ইসলামি আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান এবং বর্তমানের প্রভাবশালী সামরিক শাখা ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখেন।

১৯৮৯ সালের জুনে বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) খামেনিকে দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। সেই থেকে মৃত্যু পর্যন্ত দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় তিনি ইরানের রাজনীতি, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর ওপর নিজের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। তার শাসনামলে অভ্যন্তরীণ যেকোনো চ্যালেঞ্জ বা বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করার নীতি গ্রহণ করেছিলেন তিনি।

পররাষ্ট্র বিষয়ে খামেনি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর ও রক্ষণশীল। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম বৈরিতাই ছিল তার রাজনীতির মূল ভিত্তি। তিনি বরাবরই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ‘ক্যানসার’ হিসেবে অভিহিত করে এর বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি ইহুদি গণহত্যার (হলোকাস্ট) ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়েও তিনি আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন সময় বিতর্কিত প্রশ্ন তুলেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ছয় সন্তানের জনক খামেনির দীর্ঘ শাসনামলে ইরানে মোট সাতজন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রেসিডেন্টরা বিভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের হলেও খামেনির চূড়ান্ত নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার সুযোগ কারো ছিল না। বর্তমানে তার প্রয়াণে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো।

NB/
আরও পড়ুন