হরমুজ প্রণালি এড়াতে বিকল্প পথের সন্ধানে আরব দেশগুলো

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

ইরান-ইসরায়েল ও মার্কিন যুদ্ধের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ এখন চরম ঝুঁকিতে। এই সংকটের মুখে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো এখন সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে বিশাল সব পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবছে। মূলত ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন সমুদ্রপথ এড়িয়ে নিরাপদে তেল ও গ্যাস রপ্তানি সচল রাখাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

বর্তমান যুদ্ধে সৌদি আরবের ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইষ্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনটি দেশটির জন্য প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮০-র দশকে নির্মিত এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ৭০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠানো হচ্ছে, যা সরাসরি হরমুজ প্রণালিকে এড়িয়ে যায়। সৌদি আরামকো কোম্পানির প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের একে এই মুহূর্তের ‘সবচেয়ে বড় শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন আর শুধু একটি পাইপলাইনের ওপর নির্ভর করতে চায় না। তারা একটি ‘পাইপলাইন নেটওয়ার্ক’ বা করিডোর তৈরির কথা ভাবছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • সৌদি আরব: ইষ্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ক্ষমতা আরও বাড়ানো এবং ‘নিওম’ প্রকল্পের কাছে নতুন রপ্তানি টার্মিনাল তৈরি।
  • সংযুক্ত আরব আমিরাত: আবুধাবি থেকে ফুজাইরা পর্যন্ত দ্বিতীয় একটি বিকল্প পাইপলাইন নির্মাণের ‘প্ল্যান-বি’ নিয়ে কাজ করছে দেশটি।
  • আঞ্চলিক করিডোর: ভারত থেকে উপসাগরীয় অঞ্চল হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত একটি বিশাল অর্থনৈতিক করিডোর পুনরুজ্জীবিত করার আলোচনা চলছে, যার মধ্যে তেলের পাইপলাইনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নতুন এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা যেমন রাজনৈতিকভাবে জটিল, তেমনি ব্যয়বহুল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের ইষ্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মতো আরেকটি প্রকল্প করতে বর্তমানে অন্তত ৫০০ কোটি ডলার খরচ হবে। আবার ইরাক থেকে জর্ডান বা তুরস্ক হয়ে পাইপলাইন নিতে গেলে খরচ পড়বে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ কোটি ডলার। এছাড়া নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মরুভূমি ও পাহাড়ের মধ্য দিয়ে পাইপলাইন বসানো এক বিশাল প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ। সূত্র: দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমস

YA/SN
আরও পড়ুন