ইপসোস জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য

একঘরে থেকে পাকিস্তানের কূটনৈতিক জাদুতে মুগ্ধ বিশ্ব

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৩ এএম

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর ইসলামাবাদের প্রতি বিশ্বব্যাপী জনমত নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। 

'দ্য নিউজ' শনিবার জানিয়েছে, মার্চের শেষের দিকে যেখানে পাকিস্তানের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ছিল ৯০ শতাংশ, গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ নাগাদ তা ৭০ শতাংশেরও বেশি ইতিবাচক অবস্থানে পৌঁছেছে।

ইপসোস-এর একটি সোশ্যাল লিসেনিং রিপোর্টে দেখা গেছে, পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিশ্ব জনমতে এই বিশাল পরিবর্তন এসেছে। 

গত ২৩ মার্চ পাকিস্তানের নেতৃত্বের সাথে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর অনলাইনে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়। সেই সময় বিশ্বজুড়ে চরম সংশয় দেখা দিয়েছিল।

পাকিস্তান নিয়ে নেতিবাচক মনোভাবের পেছনে সমালোচকরা বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছিলেন। তা হলো- পাকিস্তানের নিজস্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন, আফগানিস্তান সীমান্ত নিয়ে চলমান উত্তেজনা এবং মার্কিন স্বার্থের প্রতি অনুগত থেকে পাকিস্তান নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ।

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং স্বয়ং পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও নেতিবাচকতা ছিল তুঙ্গে। অনেক পাকিস্তানি নাগরিক সরকারের বৈধতা ও কৌশলগত দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

নাটকীয় পরিবর্তন ও ইতিবাচক সাড়া

গত ৮ এপ্রিল সকালে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ যখন দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, তখন পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। 

ইপসোস রিপোর্ট এই ডিজিটাল আলোচনার পরিবর্তনকে একটি "রূপান্তরমূলক মুহূর্ত" হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার প্রধান প্রধান দিকগুলো ছিল, বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে #ThankYouPakistan হ্যাশট্যাগটি ট্রেন্ডিং হতে শুরু করে, বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারীরা একটি বৃহত্তর সংঘাত এড়ানোর জন্য পাকিস্তানকে কৃতিত্ব দেন, আন্তর্জাতিক মহল প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের মধ্যে কৌশলগত সমন্বয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। 

অনেকের আশা, এই যুদ্ধবিরতির ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হবে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের অবসান ঘটবে।

এই ইতিবাচকতা এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে সমালোচক অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্যের প্রশংসা করছেন এবং নিজ সরকারের "কূটনৈতিক সংযম" বা মধ্যস্থতায় অংশ না নেওয়ার সমালোচনা করছেন।

১৪ দিনের এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় এখন সবার নজর ইসলামাবাদের দিকে। সেখানে একটি স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনার জন্য মার্কিন ও ইরানের প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা গতকাল (শুক্রবার) থেকে শুরু হয়েছে।

ইপসোস-এর তথ্য বলছে, পাকিস্তান সফলভাবে বিশ্বমঞ্চে একটি "একঘরে রাষ্ট্র" থেকে "প্রধান মধ্যস্থতাকারী" হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি বদলে নিতে সক্ষম হয়েছে। 

HN
আরও পড়ুন