যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের লংভিউতে অবস্থিত একটি কাগজ তৈরির কারখানায় ভয়াবহ রাসায়নিক ট্যাংক বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে।
নিখোঁজ থাকা ৯ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধারের পর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
গত মঙ্গলবার (২৬ মে) ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে ওয়াশিংটনের শিল্প ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত
বিস্ফোরণের ঘটনার পর কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ থাকা ৯ শ্রমিকের সন্ধানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ চালানো হয়।
শনিবার (৩০ মে) কাউলিটজ কাউন্টি করোনার অফিস জানায়, সবকটি মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতদের বয়স ২৬ থেকে ৫৮ বছরের মধ্যে।
নিহতরা হলেন:
গিলবার্ট বার্নাল, টাইলার কোভিংটন, ব্র্যাডলি কোভিংটন, রবার্ট রব্ব উইলসন, ডেল মিলার, জ্যারেড অ্যামনস, ব্রেডন ফিঙ্কাস, ক্লিনটন সিজে ডোরান, জন ফোর্সবার্গ, নরম্যান বার্লো এবং ডিলন মিলার।
যেভাবে ঘটলো এই বিপর্যয়
মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে ‘নিপ্পন ডাইনাওয়েভ প্যাকেজিং কোম্পানি’র কারখানায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। কাগজ তৈরির অন্যতম উপাদান ‘হোয়াইট লিকার’ (অত্যন্ত ক্ষারীয় ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক) ভর্তি একটি বিশাল ট্যাংক হঠাৎ ফেটে গেলে কয়েক লাখ গ্যালন রাসায়নিক পুরো কারখানা চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে।
লংভিউ ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, শিফট পরিবর্তনের সময় অনেক কর্মী যখন ব্রেক রুমে অবস্থান করছিলেন, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণটি ঘটে।
প্রাথমিক তথ্যে ১ জনের মৃত্যু ও ৯ জন আহতের কথা জানানো হলেও, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জন এবং নিখোঁজ ৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের পর মোট মৃত্যু ১১ জনে পৌঁছায়।
পরিবেশগত প্রভাব ও নিরাপত্তা শঙ্কা
ট্যাংক বিস্ফোরণের পর রাসায়নিক যাতে স্থানীয় পানীয় জলের উৎসে মিশে না যায়, সেজন্য উদ্ধারকারী দলগুলো ব্যাপক প্রচেষ্টা চালায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে:
বিষাক্ত রাসায়নিকের কিছু অংশ কলম্বিয়া নদী ও নালায় পড়লেও স্থানীয়দের পানীয় জলের কোনো ক্ষতি হয়নি।
বাতাসে কোনো ক্ষতিকারক দূষণ পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো দাফনের আগে যথাযথ প্রক্রিয়ায় রাসায়নিকমুক্ত (Decontaminate) করা হয়েছে।
কারখানার পূর্ব ইতিহাস
নিপ্পন ডাইনাওয়েভ প্যাকেজিং কোম্পানি মূলত জুস ও দুধের কার্টন তৈরির ব্লিচড পেপারবোর্ড প্রস্তুত করে। তবে এই কারখানায় নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা আগেও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
লংভিউ ফায়ার ডিপার্টমেন্টের চিফ ব্র্যাড হ্যানিগ জানান, এই উদ্ধার অভিযান শোকার্ত পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল।
তবে সব মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে নিহতদের পরিবারের অন্তত একটু সান্ত্বনা মিলবে। বর্তমানে কারখানা কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ত্রুটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ফের বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম, লিটারে কত?