গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলো। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনে এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি গ্রহণের আলোচনা চলছে, যেখানে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং বাজার বৈচিত্র্যকরণের বিভিন্ন প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে চলমান জি-সেভেন সম্মেলনের শেষ দিনে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খল নিরাপদ করা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা করছেন নেতারা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, খসড়া বিবৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ উৎস বৈচিত্র্যময় করতে বাজারভিত্তিক প্রণোদনা, অভিন্ন মানদণ্ড, ভর্তুকি এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় নিশ্চয়তার মতো পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চীনের বাইরে সরবরাহ শৃঙ্খলে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
গত কয়েক বছরে বিরল খনিজ ও কাঁচামাল রপ্তানিতে চীনের বিধিনিষেধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে টাংস্টেন, অ্যান্টিমনি এবং বিরল খনিজের ক্ষেত্রে চীনের নিয়ন্ত্রণ পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্সির এক প্রতিনিধি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত অর্থবহ নথি নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সম্মেলনে ঘোষিত যেকোনো পদক্ষেপ পূর্ণাঙ্গ কৌশল নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ। কারণ চীনের আধিপত্য থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পশ্চিমা দেশগুলোর আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
এদিকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভারসাম্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ফ্রান্সের মূল্যায়ন অনুযায়ী, চীন অতিরিক্ত উৎপাদন করছে, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ভোগ করছে এবং ইউরোপ তুলনামূলক কম বিনিয়োগ করছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অসামঞ্জস্য সৃষ্টি করছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেয়েন বলেছেন, ইউরোপের কৌশল হলো ঝুঁকি কমানো, কিন্তু বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়।
সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় বটের দায়বদ্ধতা এবং তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন নেতারা।
জি-সেভেন নেতারা আশা করছেন, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বাজারে চীনের একক আধিপত্য কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। সূত্র: রয়টার্স
আমিই বস: ট্রাম্প
ইরান চুক্তিতে বিশ্ববাজারে খুশির জোয়ার: ট্রাম্প
আমরাই এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি: মেলোনি