ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসান এবং নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নানা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ফেডারেশন কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান কনস্ট্যান্টিন কাসাচিভ দাবি করেছেন, এই সমঝোতার সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ইসরাইল। দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে ভিলেন বানিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে উসকানি দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেয়া এক মন্তব্যে কাসাচিভ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রধান হুমকি হিসেবে তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করলেও শেষ পর্যন্ত ইসরাইল তার কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি। বরং ওয়াশিংটন ও তেহরান সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে যে সমঝোতায় পৌঁছেছে, সেখানে ইসরাইলকে কার্যত পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রুশ এই সিনেটরের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি ইসরাইলের সাথে কোনো ধরনের সমন্বয় বা আলোচনা ছাড়াই চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং এখন তা একটি ‘অপরিবর্তনীয় বাস্তবতা’ হিসেবে ইসরাইলের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ফলে আঞ্চলিক রাজনীতিতে তেল আবিবের প্রভাব ও কৌশলগত অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কাসাচিভ মনে করেন এই সমঝোতার সবচেয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে। কারণ বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি বড় অংশ এই অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমিত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি আরো বলেন, এই সমঝোতা মূলত ইরান ও লেবাননকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের ক্ষেত্রে ইসরাইলকে শান্তিপূর্ণ বাস্তবতা মেনে নিতে বাধ্য করেছে। চুক্তির মাধ্যমে আক্রমণকারী পক্ষ কোনো নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করতে পারেনি। একই সাথে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতাও ভেঙে দেয়া সম্ভব হয়নি।
কাসাচিভের মতে, সমঝোতার রাজনৈতিক প্রভাব শুধু আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়তে পারে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য সংসদীয় নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পরাজিত হলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। এমনকি আইনি জটিলতার মুখে পড়ে তাকে কারাগারেও যেতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে চূড়ান্তভাবে স্থিতিশীল বলা যাবে না। সমঝোতা সত্ত্বেও অঞ্চলটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল। তাই এই ঘটনার পরিণতি কী হবে, তা জানতে আরও সময় অপেক্ষা করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য সৃষ্টি করতে পারে। একই সাথে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও কৌশলগত অবস্থানেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।
সূত্র: ইরনা।