যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। ক্যাপিটল হিল বা কংগ্রেসের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কা তৈরি হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—এই দুই কক্ষেই বর্তমানে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগুরু হলেও এবার প্রতিনিধি পরিষদ ধরে রাখা তাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। পরিস্থিতি বিবেচনায় হোয়াইট হাউস এখন পুরো কংগ্রেসের বদলে অন্তত সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকানদের প্রধান সমস্যা হলো এই নির্বাচনে ট্রাম্প নিজে সরাসরি প্রার্থী নন। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের চড়া দাম ও চলমান যুদ্ধের কারণে ভোটারদের অসন্তোষ সরাসরি দলের প্রার্থীদের ওপর প্রভাব ফেলছে। এ কারণে মাইক রজার্সের মতো বহু প্রার্থী ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে স্থানীয় অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোকে নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে অনুসারীদের ভোটকেন্দ্রে টানতে ট্রাম্প শেষ সময়ে নিজেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচারণায় নামছেন।
নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে আগাম সংশয় তৈরি করাও ট্রাম্পের কৌশলের অন্যতম অংশ। তিনি সম্প্রতি মার্কিন নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে এতে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট'-এর মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধনে কঠোর শর্ত আরোপ এবং ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুবিধা সীমিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। গবেষণায় দেখা গেছে, ডাকযোগে ভোট কমলে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
যদি মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কোনো এক কক্ষে পরাজিত হয়, তবে ট্রাম্পের নীতি বাস্তবায়নের পথ কার্যত রুদ্ধ হয়ে পড়তে পারে। প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসন বা নানাবিধ আইনি তদন্ত শুরু হওয়া অসম্ভব নয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের সমর্থন না পেলেও ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সিয়াল ভেটো ও প্রশাসনিক নির্বাহী আদেশ ব্যবহার করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করবেন।
সূত্র: সিএনএন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ সাদিক কায়েমের