হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দায়ী: আরাঘচি

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের সরাসরি ফল হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে অস্থিতিশীলতা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৫২তম অধিবেশনের ফাঁকে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন আরাঘচি। 

রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানায়।

বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। আরাঘচি বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে ইরান কূটনীতি ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বারবার নিজেদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। সর্বশেষ যুদ্ধ অবসানের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটন সেই অঙ্গীকার লঙ্ঘন করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের সর্বশেষ পরিস্থিতিও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের যৌথ উদ্যোগের আহ্বান

বৈঠকে ফিলিস্তিনকে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেন আরাঘচি। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধের কথা তুলে ধরে তিনি দখলদারত্ব ও সহিংসতা বন্ধে মুসলিম দেশগুলোকে জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আরাঘচির বক্তব্যের পাশাপাশি মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মিসর বলেছে, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে চলাচল স্বাভাবিক রাখা বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি ও সার সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। এই জলপথে উত্তেজনা বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রণালির নিরাপত্তাহীনতার দায় নিয়ে আরাঘচির বক্তব্য ইরানের অবস্থান; এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত নেই।

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত