ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হুমকির জবাব দিতে হবে ‘কঠোর ও নির্দয়ভাবে’

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৬ পিএম

ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানার আহ্বান জানিয়েছে ইরানের কট্টরপন্থী সংবাদপত্র কায়হান। রোববার (১৮ অক্টোবর) পত্রিকাটি এক সম্পাদকীয় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হুমকির জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানোর কথা বলেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নিয়োগ করা সম্পাদক-প্রধানের অধীনে পরিচালিত কায়হান বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হুমকির জবাব দিতে হবে ‘কঠোর ও নির্দয়ভাবে’। পত্রিকাটি বিশেষভাবে ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে কায়হানের এই বক্তব্য ইরানের একটি কট্টরপন্থী সংবাদপত্রের অবস্থান। এটিকে ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক সামরিক সিদ্ধান্ত বা হামলার ঘোষণা হিসেবে দেখার মতো কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথা বলেন। বৃহস্পতিবার নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ওই স্থাপনায় হামলা চালাতে হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, সেখানে আঘাত হেনে দ্রুত স্থাপনাটি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হবে। রয়টার্সের ১৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনেও ট্রাম্পের এ বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে।

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি পাহাড়ের গভীরে নির্মিত একটি সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্স। ইরান আগে এটিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজ সংযোজনের স্থাপনা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের সেখানে প্রবেশাধিকার না থাকায় স্থাপনাটির প্রকৃত ব্যবহার ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, স্থাপনাটি এত গভীরে নির্মিত যে প্রচলিত বোমা দিয়ে এর সম্পূর্ণ ক্ষতিসাধন করা কঠিন হতে পারে। তবে সেখানে বর্তমানে কী ধরনের সরঞ্জাম রয়েছে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চলছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বিরোধ দীর্ঘদিনের। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে হবে। অন্যদিকে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে।

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার হুমকির পর ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনায় পাল্টা হামলার আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়াতে পারে। তবে কায়হানের বক্তব্যের পর ইরান সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এমইউ
আরও পড়ুন