ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মাদি। তার দাবি, দুই দেশের মধ্যে সামরিক মুখোমুখি অবস্থানের লক্ষণ আরও স্পষ্ট হচ্ছে এবং পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের দিকে এগোচ্ছে, যাকে তিনি ‘জিরো আওয়ার’ বলে উল্লেখ করেছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে মোহাম্মাদি বলেন, বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক সংঘাতের সম্ভাব্য ইঙ্গিতগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ইরাকের আকাশে তৎপরতা ও সামরিক প্রস্তুতির দাবি
মোহাম্মাদি তার বক্তব্যে ইরাকের আকাশে প্রতিপক্ষের বিমান চলাচল বৃদ্ধি, অধিকৃত ভূখণ্ডে সামরিক গতিবিধি এবং বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, শত্রুপক্ষ ‘জিরো আওয়ারের’ আরও কাছে চলে এসেছে। তবে তিনি যেসব বিমান চলাচল ও সামরিক প্রস্তুতির কথা বলেছেন, সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশ করেননি। ফলে এসব বক্তব্যকে ইরানের এক কর্মকর্তার উপদেষ্টার মূল্যায়ন হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন; এগুলো আসন্ন হামলার নিশ্চিত প্রমাণ নয়।
ইসরায়েলের সামনে গোয়েন্দা ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ
মোহাম্মাদির মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সামনে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে পর্যাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সেসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সুযোগ বজায় রাখা এবং যুদ্ধের সময়, স্থান ও পরিণতি নিয়ন্ত্রণ করা। তিনি এসব বাধাকে গোয়েন্দা, অভিযান পরিচালনা ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল যে অপেক্ষা করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তার আশঙ্কা, ভুল হিসাব-নিকাশ কিংবা আবেগপ্রসূত কোনো সিদ্ধান্ত থেকেও নতুন সংঘাত শুরু হতে পারে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়লে তার প্রভাব দুই দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরাকসহ আশপাশের অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি, আকাশপথের নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এই বক্তব্যে নেই। মোহাম্মাদির মন্তব্যে ইরানের নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ ফুটে উঠেছে; ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অবস্থান বা স্বাধীন সামরিক মূল্যায়ন এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
সব মিলিয়ে, ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ একজন উপদেষ্টার এই সতর্কবার্তা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। কিন্তু ‘জিরো আওয়ার’ বলতে নির্দিষ্ট কোনো হামলার সময়সূচি বোঝানো হয়েছে, এমন তথ্য তিনি দেননি। পরিস্থিতির প্রকৃত গতিপথ বুঝতে উভয় পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সামরিক তথ্যের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
ইরানের কুর্দিস্তানে ভারী অস্ত্রসহ সেনা মোতায়েন করলো আইআরজিসি
গভীর রাতে গাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে পুড়লো মসজিদ