ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো, পারমাণবিক আলোচনায় নতুন পথ তৈরি এবং ইয়েমেনের হুথি ইস্যু নিয়ে তেহরানে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। বুধবার (২১ অক্টোবর) আল আরাবিয়া ও আল হাদাথ কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে মুনিরের বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমিত করা। এ ছাড়া তেহরানে অন্যান্য বৈঠকেও হুথি গোষ্ঠী ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে মুনির জানিয়েছেন, পাকিস্তান তার জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরবের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে এ আলোচনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তবে বৈঠকে হুথি ইস্যুতে কী ধরনের নির্দিষ্ট প্রস্তাব বা সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, পাকিস্তান মনে করে, পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানকে আরও নমনীয় অবস্থান নিতে হবে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। এর আগে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় জুন মাসে একটি অস্থায়ী সমঝোতা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কয়েক সপ্তাহ পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবার লড়াই শুরু হলে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ কার্যত ভেস্তে যায়।
নতুন করে আলোচনার পথ তৈরি করা গেলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
তেহরান সফরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে গালিবাফ বলেন, ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত বাস্তবায়ন না করলে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের আস্থা ফিরে পাবে না।
তিনি বলেন, “আমেরিকার সঙ্গে নতুন করে আলোচনা করার মতো কিছু নেই। সাতটি শর্ত বাস্তবায়ন ছাড়া আমেরিকা ইরানের আস্থা অর্জন করতে পারবে না।”
গালিবাফ আরও বলেন, হুমকি ও সামরিক তৎপরতা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কৌশলগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারবে না।
তবে ইরানের ওই সাতটি শর্তের পূর্ণ বিবরণ এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে সেগুলোর সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলাদা করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে পাকিস্তানের উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হুথি তৎপরতা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে।
একদিকে পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে চাইছে, অন্যদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তার গুরুত্বও তুলে ধরছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে তেহরানের অবস্থান নমনীয় করার আহ্বান মধ্যস্থতার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মুনিরের সফরে আলোচনার বিষয়গুলো উঠে এলেও নতুন কোনো চুক্তি বা সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তাই সফরটিকে আপাতত উত্তেজনা কমানো ও আলোচনার পথ পুনরায় খোঁজার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
হুথি হামলার শঙ্কায় সৌদি থেকে কূটনীতিকদের সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
'ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ঘনিয়ে আসছে'
ঢাকা-দাম্মাম ফ্লাইট চলাচল শুরু