ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনির সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বৈঠকে সামরিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, জাতীয় ঐক্য এবং দেশের কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কসহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এই তথ্য জানিয়েছে। সর্বোচ্চ নেতার গণমাধ্যম কার্যালয়ের তথ্য পোর্টালের বরাতে সংস্থাটি জানায়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের চলমান সামরিক, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির সর্বশেষ দিকগুলো পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে সর্বোচ্চ নেতা জাতীয় শক্তির বিভিন্ন উপাদান আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সংহতি রক্ষায় সংসদ সদস্যদের কার্যকর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।
জনসমাবেশে জনগণের সচেতন ও প্রতিরোধমূলক উপস্থিতি অব্যাহত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে আইআরএনএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের নেতৃত্বের দৃষ্টিতে, চলমান সংঘাত ও চাপের পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জাতীয় সক্ষমতা ধরে রাখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বৈঠকে জনগণের অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রাসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে সরকার ও পার্লামেন্টের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়।
মূল্যস্ফীতি, জীবিকা ও অর্থনৈতিক চাপের মতো জনজীবন-সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আলোচনায় উঠে আসে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া দেশের কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সর্বোচ্চ নেতা।
বৈঠকে গালিবাফ চলমান ‘তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ শুরু হওয়ার পর থেকে জনপ্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সর্বোচ্চ নেতাকে প্রতিবেদন দেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় পার্লামেন্টের চলমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
‘তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ শব্দবন্ধটি ইরানি কর্তৃপক্ষের ব্যবহৃত ভাষা। এটি তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামরিক বর্ণনার অংশ।
বৈঠকের বিষয়ে আইআরএনএর প্রতিবেদনে আলোচনা ও নির্দেশনার কথা জানানো হলেও নির্দিষ্ট কোনো নতুন সামরিক সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক প্যাকেজ কিংবা কূটনৈতিক উদ্যোগ ঘোষণার উল্লেখ নেই।
প্রেক্ষাপট: বৈঠকটি থেকে বোঝা যায়, ইরানের নেতৃত্ব সামরিক ও আন্তর্জাতিক চাপের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং অর্থনৈতিক সমস্যাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে আলোচনায় উত্থাপিত বিষয়গুলো বাস্তব নীতিগত পদক্ষেপে কীভাবে রূপ নেয়, তা পরবর্তী ঘোষণাগুলোর ওপর নির্ভর করবে।
মাত্র ৫৬ ডলারের ক্ষতির অপরাধে ইরানে বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড
বাংলা হেদায়েতে যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ১০, আহত ৪৪
‘আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করার মতো কিছু নেই’, আসিম মুনিরকে গালিবাফ