ইরানে সরকার পতনে মরিয়া নেতানিয়াহু, বাস্তবে কতটা সম্ভব?

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ এএম

ইরানের সরকার উৎখাত করাকে নিজেদের মূল লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো আর রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেবল বিমান হামলা চালিয়ে তেহরানের পতন ঘটানো প্রায় অসম্ভব।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পেন্টাগন প্রধানের ইসরায়েল সফরের পর বিষয়টি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। নিজ দেশে রাজনৈতিক চাপ ও জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা নেতানিয়াহু এই অবস্থান নিলেও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো অভিযানে নামবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থল অভিযান চালানোর মতো সক্ষমতা বা স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত কঠিন। ভৌগোলিক দূরত্ব এবং ইরানের পাহাড়ি অঞ্চলের সুদৃঢ় সামরিক স্থাপনাগুলো বিমান হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়।

যদিও আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ ও আধুনিক যুদ্ধবিমানের কারণে ইসরায়েল সাময়িকভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে, কিন্তু এতে সরকারের পতন নিশ্চিত হয় না। তাছাড়াও ইরানের ভূগর্ভস্থ গোপন পারমাণবিক ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমার প্রয়োজন, যা ইসরায়েলের এককভাবে নেই।

একই সাথে ইরানের রয়েছে সস্তা ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল মজুত। ইসরায়েলের ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে এসব হামলা ঠেকিয়ে রাখতে গেলে অর্থ ও অস্ত্রের সংকট দেখা দেবে। ফলে এককভাবে কোনো অভিযান চালানো নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ও রাজনৈতিক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা 

এইচএন
আরও পড়ুন