ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৫১২ হুথি যোদ্ধা নিহত

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮০টি হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। এসব অভিযানে প্রায় ৫১২ হুথি যোদ্ধা নিহত বা যুদ্ধের অক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি। একই সময়ে ৩৩০টির বেশি সামরিক যান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে আল-নুজাইলি বলেন, ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’-এর অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে হুথিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন ফ্রন্টের পাশাপাশি আল-জাওফ, পশ্চিম মারিব ও আল-বায়দা প্রদেশে হুথিদের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

এসব হামলার লক্ষ্য ছিল হুথিদের মাঠপর্যায়ের কমান্ডার, সেনা সমাবেশ, অতিরিক্ত সেনা ও রসদবাহী দল, ভারী অস্ত্রের অবস্থান, সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা এবং সামরিক যানবাহন।

আল-নুজাইলি আরও দাবি করেন, তাইজ প্রদেশের সম্মুখভাগের দিকে অগ্রসর হওয়া ভারী অস্ত্র ও অতিরিক্ত সেনা-রসদও হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে।

তাঁর ভাষ্য, এসব অভিযানের ফলে হুথিদের সামরিক তৎপরতা ব্যাহত হয়েছে এবং সম্মুখভাগে অতিরিক্ত সেনা ও সরঞ্জাম পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে সরকারি বাহিনীর আক্রমণ অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে তাইজ প্রদেশে বিমান হামলার খবর জানানো হয়। ওই হামলায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা, রাডার, সামরিক যোগাযোগ সরঞ্জাম ও অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র জানান, হুথিদের সামরিক অবস্থান ও সম্মুখভাগে পাঠানো রসদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখা হবে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষায় সতর্কতা অবলম্বন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার কথাও বলেন তিনি।

তবে এসব অভিযানে বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়ার কোনো তথ্য বিবৃতিতে দেওয়া হয়নি।

ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও হুথিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর সংঘাত আরও তীব্র হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সরকারি বাহিনীর দাবি করা ৭৮০টি হামলা, ৫১২ যোদ্ধার হতাহত বা যুদ্ধের অক্ষম হওয়া এবং ৩৩০টির বেশি সামরিক যান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এসব পরিসংখ্যানকে আপাতত সরকারি বাহিনীর দাবি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত