১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করলো গ্রিস

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে গ্রিস। দেশটির পার্লামেন্টে পাস হওয়া নতুন আইন অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিসের দল নিউ ডেমোক্রেসির সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিলটি পাস হয়। তবে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া বিতর্কের পরও অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বিলটির পক্ষে সমর্থন দেয়নি।

নতুন আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। বিধিনিষেধ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।

এর আগে গত এপ্রিলে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন মিতসোতাকিস। তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ পদক্ষেপকে কঠিন, কিন্তু প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন।

বিরোধী সমাজতান্ত্রিক দল পাসক বিলটিতে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল। দলটি বিকল্প একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে ১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ১৩ ও ১৪ বছর বয়সীদের জন্য অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছিল।

নতুন নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে শিশু-কিশোরদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হলো গ্রিস। অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ এ ধরনের বিধিনিষেধ চালু করেছে অথবা তা কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছে।

সমালোচকদের আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন কিছু অ্যালগরিদম তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে পর্দায় ব্যস্ত রাখে। শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পড়তে পারে বলেও উদ্বেগ রয়েছে।

তবে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আইন বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাবে এবং এতে শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা কতটা বাড়বে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমইউ
আরও পড়ুন