হরমুজ প্রণালি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ৬০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এক কমান্ডার। তাঁর দাবি, বর্তমানে পারস্য উপসাগরেও মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি নেই এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ আর দেখা যাচ্ছে না।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার ওজামাই বলেন, “আজ পারস্য উপসাগরে আমেরিকানরা উপস্থিত নেই। তারা হরমুজ প্রণালি থেকে ৬০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে এবং ওই এলাকায় তাদের জাহাজ আর দেখা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো জায়গা নেই।”
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে ইরানি কমান্ডারের এ বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
ইরানি কমান্ডারের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইরান। এ উদ্দেশ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইনে বিস্ফোরণ ও জাহাজে হামলার বিষয়ে ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়কেও ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর দাবি, তেলের দাম বাড়াতে ইরান বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তবে প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায় ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য সরবরাহ করা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলার ছাড়িয়ে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ মাসের মধ্যে এটি ছিল তেলের সর্বোচ্চ দাম।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা, পরিবহন ব্যয় ও তেলের দামে চাপ বাড়তে পারে।
বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক দামের স্থায়িত্ব, আমদানি চুক্তি ও দেশের মূল্য সমন্বয় ব্যবস্থার ওপর।
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি, জাহাজ চলাচল এবং নৌমাইনে বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ইরান দাবি করছে, মার্কিন বাহিনী অঞ্চলটি থেকে দূরে সরে গেছে; অন্যদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে এসেছে, প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি।
এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে মার্কিন বাহিনীর প্রকৃত অবস্থান, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বর্তমান পরিমাণ এবং তেলের বাজারে উত্তেজনার প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণে স্বাধীন সামরিক ও জ্বালানি-সংক্রান্ত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
হরমুজে নৌমাইনে আঘাত, অচল দুই সুপারট্যাংকার: আইআরজিসি
শনিবার-রোববারের মধ্যেই ইরানে হামলা হতে পারে: ট্রাম্পের বিশেষ দূত